দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা গেলেন বিখ্যাত মিসরীয় অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা গেলেন বিখ্যাত মিসরীয় অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী
দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মিসরের শক্তিমান অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী। (ছবি: সংগৃহীত)

শোবিজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুর জটিল ব্যাধি ‘মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস’ (এমএস)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন মিসরের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই অভিনেতার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫০ বছর। ঘাতক ব্যাধিটি তাঁর শরীরের স্বাভাবিক চলাচলের সক্ষমতা পুরোপুরি কেড়ে নেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি অভিনয় ও পর্দার আড়ালে জীবনযাপন করছিলেন।

মিসরীয় অ্যাক্টরস সিন্ডিকেটের সভাপতি আশরাফ জাকি অভিনেতার প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করে জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস সংক্রান্ত জটিলতায় আমরের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছিল। মরহুমের ভাই আহমেদ জানান, মৃত্যুর ঠিক আগে আমর সম্পূর্ণভাবে অন্যের সাহায্য ছাড়া দাঁড়ানো বা চলাফেরা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং একপর্যায়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

অভিনয়জীবন ও জনপ্রিয়তা:

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে একজন শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন আমর মোহাম্মদ আলী। সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দ্রুতই তিনি মিসরীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকে স্থান করে নেন। তাঁকে ‘মিস্টার ক্যারাতে’, ‘রাইয়া অ্যান্ড সাকিনা’, ‘হাওয়া ওয়াল তুফফাহা’ এবং ‘হিকায়াত মাজনুনা’-র মতো বেশ কিছু সফল চলচ্চিত্রে দেখা গেছে।

এছাড়া কিংবদন্তি অভিনেতা নূর এল শেরিফের সঙ্গে ‘ইশ আইয়ামাক’ এবং বিশেষ করে বিখ্যাত অভিনেতা সালাহ এল সাআদানির বিপরীতে ‘আরাবেস্ক’ ধারাবাহিক নাটকে ‘শাকশাক’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেয়। ২০০৬ সালে প্রচারিত ধারাবাহিক ‘হাদায়েক আল শয়তান’-এ তাঁকে সর্বশেষ অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল।

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) ব্যাধি:

উল্লেখ্য, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক ব্যাধি যা মানবদেহের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিস্ক ও মেরুদণ্ড)-কে আক্রমণ করে। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুলবশত স্নায়ুতন্তুর প্রতিরক্ষামূলক স্তর ‘মায়েলিন’ ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে মস্তিষ্ক থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে বৈদ্যুতিক সংকেত আদান-প্রদান ব্যাহত হয়। এতে তীব্র ক্লান্তি, মাংসপেশির দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও অঙ্গহানির মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

মন্তব্য করুন