রপ্তানিতে নতুন খাত ও হালাল ইকোসিস্টেমে জোর দেওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ণ
রপ্তানিতে নতুন খাত ও হালাল ইকোসিস্টেমে জোর দেওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
রাজধানীতে বিআইআইএসএস আয়োজিত হালাল ইকোসিস্টেম বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতানুগতিক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হ্রাস করে নতুন নতুন সম্ভাবনাময় খাতের উন্মোচন করার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ক্ষেত্রে আসিয়ান (ASEAN) অঞ্চলের সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য ‘হালাল ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, হালাল অর্থনীতিকে এখন আর শুধু প্রথাগত খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ দেখার সুযোগ নেই। এটি বর্তমানে খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বিশাল এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্র।

বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর মূল বিষয়সমূহ:

  • সার্টিফেকশন ও আস্থার উন্নয়ন: আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশাধিকারের জন্য স্বাধীন ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা অপরিহার্য, যা বাংলাদেশী পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়াবে।

  • বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা: নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ও মান বৃদ্ধিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে এবং সে লক্ষ্যে নিরাপদ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

  • এলডিসি উত্তরণ ও চুক্তি: এলডিসি (LDC) গ্র্যাজুয়েশনের পর সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) সম্পাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার:

সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা আসিয়ানের মালয়েশিয়া মডেলের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে হালালকে গবেষণা, লজিস্টিকস ও সার্টিফিকেশনের একটি পূর্নাঙ্গ ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশে হালাল খাতের বিকাশ ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে ৫টি অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়: ১. আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো তৈরি।

২. বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার ও অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার নির্মাণ।

৩. বিদ্যমান উৎপাদন খাতগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ।

৪. এসএমই, গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের এতে সম্পৃক্ত করা।

৫. কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে 'বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড' প্রতিষ্ঠা করা।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রেদওয়ানুর রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। অন্যান্যের মধ্যে ইসলামী ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য করুন