অক্টোবরেই চালু হচ্ছে ৫ বিভাগে নতুন পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ণ
অক্টোবরেই চালু হচ্ছে ৫ বিভাগে নতুন পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর বাড়িয়ে নয়, সঠিক সময়ে কার্যকর ও বিস্তৃত টিকাদানের মাধ্যমেই কেবল মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হামের সার্বিক বিস্তার ও শিশুমৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ শীর্ষক কর্মশালা ও গবেষণা অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত বলেন, "২০২৪ সালের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে যথাসময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া ও নীতিগত সমন্বয়হীনতার কারণে টিকাদানে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তার খেসারত হিসেবে আজ হাম ছড়িয়ে পড়েছে। হাজারটা ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ শয্যা যুক্ত করেও এই প্রাদুর্ভাব থামানো যাবে না; কার্যকর প্রতিরোধ ও শতভাগ টিকাদানই এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান।"

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রকার অবাস্তব আশ্বাসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে টিকাদানের গতি দ্বিগুণ করা হলেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তবে এই মেয়াদের মধ্যে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুমৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের ৫টি বিভাগীয় শহরে নবনির্মিত ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণে দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে, যেখানে পেডিয়াট্রিক্স, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি—এই চার মূল বিভাগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতের চরম জনবল সংকট কাটাতে বড় ধরনের নিয়োগের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে দ্রুত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অতি দ্রুত ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক অনুপাত বজায় থাকে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি। অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বি-র প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

মন্তব্য করুন