
স্পোর্টস ডেস্ক:সফরকারী শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। মাঠের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে বল হাতে যৌথভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশের দুই সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। ম্যাচ শেষে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের বোলিং পরিপক্বতা এবং সবসময় চিল বা চাপমুক্ত থাকার দারুণ প্রশংসা করেছেন স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদ।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, পেস বোলিং ইউনিট ও টিম কম্বিনেশন খতিয়ান’ এবং ‘রিভার্স সুইং টেকনিক, ম্যাচ অ্যানালিসিস ও প্লেয়ার্স কর্নার উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে অজি বধের পর তাসকিনের এই বিশেষ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন আহমেদ সতীর্থ মুস্তাফিজের প্রশংসা করে বলেন, “ফিজ তো অলওয়েজ চিল গাই (সবসময় শান্ত মেজাজের ছেলে)। বোলিংয়ে এক্সপিরিয়েন্স অনেক বেশি ম্যাটার করে, যেটা ওর বোলিং দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। এতদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে খেললে কন্ডিশন বোঝা সহজ হয়। দলের প্রয়োজনে এখন ও নতুন বলেও নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করছে। ফিজ আসলে এমন একজন বোলার, যে চাইলেই যেকোনো কন্ডিশনে ভালো করতে পারে। ও এটা বারবার প্রমাণ করেছে।” এ সময় মজার ছলে তাসকিন হাসতে হাসতে আরও যোগ করেন, “তবে নতুন বলে বেশি ভালো করলে আবার টেস্টে ডাকতে পারে। হাহা, মজা করছি। ও চাইলেই সব ধরনের জায়গায় ও কন্ডিশনে বল করতে পারে। যে-ই যখন বল করছে মাশাআল্লাহ ভালো করছে। এটাই ভালো ফাস্ট বোলিং গ্রুপের লক্ষণ।”
ম্যাচের শুরুর ওভারে নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে তাসকিন জানান, আধুনিক ক্রিকেটে প্রত্যেক দলেই কম্পিউটার অ্যানালিসিস থাকে। বোলারদের মতো ব্যাটাররাও প্রত্যেকে প্রত্যেককে নিয়ে অ্যানালিসিস করে মাঠে আসে—কার কোথায় দুর্বলতা আর কার কোথায় শক্তি। বোলার হিসেবে নিজে যখন ভালো ছন্দে থাকা যায়, তখন মাঠে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বলের এক্সিকিউশন করাটা সহজ হয়ে যায়। তবে উইকেটে ভালো বল করার পাশাপাশি কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়াও লাগে।
ইনিংসের শেষের দিকে পুরোনো বলে রিভার্স সুইং আদায়ের কৌশল নিয়ে তাসকিন বলেন, ওডিআই ক্রিকেটে ৩৪ ওভারের পর একটা বল দিয়ে খেলা হয়। বলটি যদি ফিল্ডার ও বোলাররা মিলে ঠিকঠাক মেইনটেইন বা তৈরি করতে পারে, তবে কিছুটা রিভার্স সুইং পাওয়া সম্ভব। তবে শুধু রিভার্স হলেই হবে না, সেটির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাও জরুরি। তাসকিন স্বীকার করেন, গত টেস্ট সিরিজে লম্বা সময় পুরোনো বলে বল করার অভিজ্ঞতা তার এই ওডিআই ম্যাচে দারুণ উপকারে এসেছে। সেই গাট ফিলিং বা আত্মবিশ্বাস থেকেই পুরোনো বলে নিয়ন্ত্রণ রেখে রিভার্স সুইং করতে পেরেছেন তিনি। বলের কন্ডিশন দারুণভাবে বজায় রাখার জন্য মাঠের বাকি সতীর্থদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানান এই ডানহাতি গতি তারকা।
জান্নাত সকালবেলা