
স্পোর্টস ডেস্ক:বিশ্ব ফুটবলের ক্যানভাসে মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর নাম শুনলেই এক টানটান উত্তেজনা কাজ করে কোটি ভক্তের মনে। তবে মাঠের সেই ৯০ মিনিটের বৈরিতা যে মাঠের বাইরে কেবলই পারস্পরিক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও ফুটবলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসায় রূপ নেয়, সেটাই আবারও প্রমাণ করলেন সেলেসাওদের সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি লেফটব্যাক রবার্তো কার্লোস। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার একটি জনপ্রিয় দৈনিক সংবাদপত্রকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসির ফুটবল জাদুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল, বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গন ও বিশ্বকাপ উন্মাদনা খতিয়ান’ এবং ‘লাতিন ফুটবল দ্বৈরথ, ফ্রি-কিক কৌশল ও সেলেসাও স্কোয়াড উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে রবার্তো কার্লোসের এই মহাকাব্যিক সাক্ষাৎকারের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
সাক্ষাৎকারে নিজের চিরচেনা হাসিমুখে লিওনেল মেসির পায়ের জাদুর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে রবার্তো কার্লোস বলেন, “মাঠে লিওনেল মেসির খেলা দেখলে সত্যি চোখ জুড়িয়ে যায়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মেসি কেবল আর্জেন্টিনার আইকন নয়, বরং গোটা লাতিন আমেরিকান ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞাপন।” নিজের সময়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফ্রি-কিক ও সেটপিস বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত কার্লোস বর্তমান সময়ে তার নিজের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবেও মেসির নাম সানন্দে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সেটপিস বা ফ্রি-কিকের ক্ষেত্রে মেসি নিজের বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি করেছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কিংবা ইন্টার মায়ামি—দুই ক্লাবের জার্সিতেই সে ফ্রি-কিক থেকে নিয়মিত অবিশ্বাস্য সব গোল করে যাচ্ছে।”
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপটি মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বমঞ্চ কি না—এমন এক কোটি টাকার প্রশ্নের জবাবে কার্লোস বেশ চতুর ও ইতিবাচক উত্তর দেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এবারের পুরো বিশ্বকাপটি মেসির কোনো চাপ না নিয়ে স্রেফ উপভোগ করা উচিত। কারণ এটাই সম্ভবত ওর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। আবারও জোর দিয়ে বলছি, সম্ভবত। কারণ মেসি যদি নিজের ফিটনেস ও শরীরের সঠিক যত্ন নিতে পারে, তবে ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপেও তার খেলার সম্ভাবনা আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না। সে চাইলেই তা পারে।” কার্লোস আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে ব্রাজিলেও মেসির অসংখ্য ভক্ত রয়েছে, যা ফুটবলের আধুনিক ও সুন্দর রূপকে ফুটিয়ে তোলে।
বিগত ২০০২ সালে রবার্তো কার্লোসদের হাত ধরেই সর্বশেষ সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিল ব্রাজিল। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের শিরোপার অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে সেলেসাও সমর্থকেরা। এবারের আসরে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কার্লোস বলেন, “অনেকেই হয়তো ফর্মের কারণে ব্রাজিলকে এবার এক নম্বর ফেভারিটের তালিকায় রাখছেন না, তবে তা নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নই। বিশ্বকাপে ফেভারিট তকমা থাকাটা জরুরি নয়; বরং এই মঞ্চে যারা সবচেয়ে কম ভুল করবে, শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরবে। আমাদের কোচ ও স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা যথেষ্ট মানসম্পন্ন। তবে মাঠে নেমে তাদের দেশের জার্সির মর্যাদা বুঝতে হবে এবং দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে।”
সবশেষে দলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কার্লোস কিছুটা সতর্ক বার্তা দেন। তিনি বলেন, “নেইমারকে নিয়ে আমাদের সবার আগে দেখতে হবে সে মাঠে নামার জন্য শতভাগ ফিট কি না; কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সে একের পর এক মারাত্মক চোটে ভুগেছে। তবে ব্রাজিলের বর্তমান ড্রেসিংরুমে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ লিডারের উপস্থিতি বড্ড প্রয়োজন—সে মূল একাদশে খেলুক কিংবা সাইড বেঞ্চে বসে জুনিয়রদের দিক-নির্দেশনা দিক। আর নেইমার যদি পুরো ফিট হয়ে মাঠে তার চেনা ছন্দ দেখাতে পারে, তবে তা ফুটবল বিশ্বের জন্য দেখার মতো এক দৃশ্য হবে।”
জান্নাত সকালবেলা