
ক্রীড়া ডেস্ক:৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপে এশিয়ার দেশগুলোর পারফরম্যান্স যেন ফুটবল বিশ্বের সব সমীকরণ উল্টে দিচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে শঙ্কা ছিল—বড় দলগুলোর সামনে ছোট দলগুলো হয়তো গোলবন্যায় ভেসে যাবে—সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে এশিয়ার প্রতিটি দেশ এখন প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করছে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল স্পোর্টস, বিশ্বকাপ খতিয়ান ও ক্রীড়া ডেস্ক’-এর বিশেষ স্পোর্টস বুলেটিনে এশিয়ার এই অভাবনীয় উত্থানের চিত্র তুলে ধরা হলো।
বিশ্বকাপে এশিয়ার জয়ের গল্পটা শুরু হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার হাত ধরে, যারা চেক রিপাবলিককে ২-১ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল ফুটবল বিশ্বকে। তবে প্রকৃত ‘শকিং’ পারফরম্যান্সের শুরুটা হয় কাতারের হাত ধরে। ডার্ক হর্স সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মিনিটের গোলে ম্যাচ ড্র করে কাতার প্রমাণ করেছে, তারা এই আসরে শুধু অংশগ্রহণ করতে আসেনি। এরপর সূর্যোদয়ের দেশ জাপান নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ২-২ গোলে রুখে দিয়ে দেখিয়েছে দুর্দান্ত কামব্যাক কাকে বলে।
অস্ট্রেলিয়া, যারা এশীয় অঞ্চলের বাছাইপর্ব পেরিয়ে এসেছে, তারা তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে রূপকথার এক অধ্যায় রচনা করেছে। উরুগুয়ের মতো দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী পরাশক্তির বিপক্ষে সৌদি আরবের ম্যাচটি তো ছিল এবারের আসরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা; শেষ মুহূর্তের গোলে উরুগুয়ে কোনোমতে হার এড়ালেও সৌদি আরবের লড়াই দেখে মুগ্ধ বিশ্ব। আজকের সকালের ম্যাচে ইরান দুইবার পিছিয়ে পড়েও যেভাবে সমতায় ফিরেছে, তা প্রমাণ করে এশিয়ার দলগুলো এখন মানসিক ও শারীরিকভাবে যেকোনো শক্তির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপ প্রমাণ করছে যে ফুটবল এখন আর গুটিকয়েক মহাদেশের সীমাবদ্ধতা নয়। এশিয়ার দেশগুলো কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং অদম্য মনোবলের সংমিশ্রণে এমন এক ফুটবল খেলছে যা বড় শক্তিগুলোকে নিয়মিত পরীক্ষায় ফেলছে। অস্ট্রেলিয়ার সামরিক শৃঙ্খলা, জাপানের দ্রুতগতির ফুটবল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জেদ—সব মিলিয়ে এশিয়া মহাদেশ এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে এক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু।
ইরানের হার না মানা মানসিকতা থেকে শুরু করে কাতারের কৌশলগত ড্র—এশিয়ান দলগুলো বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপের এই বিশাল মঞ্চে এখন প্রতিটি দেশই সমান শক্তিশালী। বড় দলগুলোর জন্য এশিয়ার এই অজেয় পথচলা এখন এক নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা টুর্নামেন্টকে করেছে আরও জমজমাট ও অপ্রত্যাশিত।
জান্নাত সকালবেলা