
ক্রীড়া প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে যেন রেকর্ডের এক নতুন বন্যা বইয়ে দিয়ে চলেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ ম্যাচে এলএমটেনের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একগুচ্ছ সোনালী পালক। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের দুটি সম্পূর্ণ আলাদা আসরে অন্তত ৭টি করে গোল করার এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়লেন এই ফুটবল জাদুকর।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোররাতে মায়ামিতে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক কেপ ভার্দের মুখোমুখি হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের খেলা শেষে অভিজ্ঞ ও ইনফর্ম ফরোয়ার্ড মেসির জাদুকরি গোলেই লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ঢিমেতালে লড়াই শুরু হলেও সেই অচলাবস্থা ভাঙতে বেশি সময় নেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচের ঠিক ২৯তম মিনিটে সেন্টার ব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজ মাঝমাঠের কিছুটা সামনে থেকে উঁচু করে অসাধারণ ও নিখুঁত একটি লং পাস বাড়ান কেপ ভার্দের ডি-বক্সে। বলটি শূন্য থেকে মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের চিরাচরিত আলতো ও চোখ ধাঁধানো স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। এরপর আগুয়ান গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে পুরোপুরি পরাস্ত করে বাম পায়ের এক নিখুঁত ও মাপা শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের রেকর্ড ৩০তম ম্যাচ খেলতে নামা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির এবারের আসরে এটি সপ্তম গোল। এই গোলটির মাধ্যমে তিনি চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষস্থানটি আরও মজবুত করলেন। একই সাথে সব মিলিয়ে ফুটবলের এই বৈশ্বিক মহাযজ্ঞে তাঁর মোট গোল সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ২০টিতে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলের সংখ্যা বিশের ঘর ছোঁয়া পৃথিবীর প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় এখন লিওনেল মেসি।
এর আগে, সবশেষ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পথে মহাকাব্যিক ৭টি গোল করেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই খুদে জাদুকর। ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে দুটি আলাদা আসরে ন্যূনতম ৭টি করে গোল করার এই কীর্তি ফুটবল ইতিহাসের আর কোনো কিংবদন্তিরই নেই। শুধু তাই নয়, এই গোলটির মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ৮টি ম্যাচে গোলের দেখা পাওয়ার এক অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন তিনি, যে গোলযাত্রার শুরুটা হয়েছিল ২০২২ সালের কাতার আসরের শেষ ষোলোর ম্যাচ থেকে। ওনার এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোর পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।