
ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র ওমরাহ পালনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মারাত্মক ধূলিঝড় এবং আকস্মিক বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে এক বিশেষ আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে পবিত্র মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের কিছু অংশে দিনের বেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। এই চরম ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মক্কা-মদিনার স্থানীয় বাসিন্দা, ওমরাহযাত্রী এবং সাধারণ ভ্রমণকারীদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বনের কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকালে সৌদি আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাস বুলেটিনের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনা পবিত্র নগরী দুটির পাশাপাশি আল-জাওফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, হাইল, আল-কাসিম, রাজধানী রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং নাজরানের বিস্তীর্ণ এলাকায় মরুভূমির ধুলো ও বালুবাহী প্রবল গরম বাতাস (লু হাওয়া) তীব্র বেগে বয়ে যেতে পারে। এই শুষ্ক ধূলিঝড়ের কারণে রাস্তাঘাটে দৃশ্যমানতা বা ভিজিবিলিটি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে চালকদের সাবধানে গাড়ি চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তীব্র গরমের পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও আবহাওয়া চরম অস্থিতিশীল থাকার আভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাজান, আসির ও আল-বাহা অঞ্চলের কিছু অংশ এবং মক্কা নগরীর দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়ি ও পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় দমকা বাতাসের সঙ্গে আকস্মিক বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
একদিকে তীব্র দহন ও ধূলিঝড়, অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির এই দ্বিমুখী আবহাওয়ার কারণে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে আগত ইবাদতকারীদের পর্যাপ্ত পানি পান করার, ছাতা ব্যবহার করার এবং ধূলিঝড় থেকে বাঁচতে ফেস মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ওমরাহ ও হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।