
স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ড শিবিরের প্রধান কোচ টমাস টুখেল যখন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বোতলবন্দি করার হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন, ঠিক তখনই তার পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আর্জেন্টিনার ডাগআউটও। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় সেমিফাইনালের আগে প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় দুই চালিকাশক্তি— জুড বেলিংহ্যাম ও অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষ ডিফেন্সিভ ও ট্যাকটিক্যাল মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni)।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে স্কালোনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এই দুই ইংলিশ স্তম্ভকে যদি ম্যাচের শুরু থেকে ছন্দে ফিরতে না দেওয়া যায়, তবে ফাইনালে ওঠার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ আর্জেন্টিনার হাতে চলে আসবে।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার পেছনে জুড বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham) এবং হ্যারি কেইনের (Harry Kane) জুটি সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। টুর্নামেন্টে দুজনেই ৬টি করে গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসিকে তাড়া করছেন। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহ্যাম মিডফিল্ড থেকে যেভাবে রক্ষণ ও আক্রমণ— দুই বিভাগেই বক্স-টু-বক্স ফুটবল খেলছেন, তা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ত্রাস।
এই প্রসঙ্গে লিওনেল স্কালোনি বলেন,
“বেলিংহ্যাম ও কেইন দুজনেই বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অসাধারণ দুজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়। তারা নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরাদের কাতারে থাকবে এবং পৃথিবীর যেকোনো কোচই তাদের নিজের একাদশে পেতে চাইবেন। তবে আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। মাঠে তাদের প্রভাব ও পারফরম্যান্সের গ্রাফ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, ছেলেরা মাঠে সেটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।”
চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচগুলোতে তীব্র প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। তবে প্রতিবারই অধিনায়ক লিওনেল মেসির দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত জাদুতে দল সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছে।
ইংল্যান্ডের গতিময় এবং ফিজিক্যাল ফুটবলের বিরুদ্ধে স্কালোনির প্রধান অস্ত্র হতে যাচ্ছে বলের নিয়ন্ত্রণ বা ‘পজেশন ফুটবল’। স্কালোনি বলেন, “আমাদের ক্ষুধা ও ফাইনালের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দুটোই প্রবল। আমরা বলের দখল (Ball Possession) নিজেদের পায়ে ধরে রেখে আমাদের চেনা স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে চাই, কারণ এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য ও শক্তি। যেসব ফুটবলার পুরো টুর্নামেন্টে এই দলটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, বিশেষ করে মেসি এবং দলের অন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা, তাদের কাছ থেকে এই সেমিফাইনালেও আমি একটি বিশ্বমানের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছি।”
মাঠের বাইরে যখন আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ৭৮ লাখ মানুষের অনলাইন পিটিশন নিয়ে তুমুল তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই মাঠের ভেতরের রণকৌশল ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে নিজেদের শতভাগ মনোযোগী রাখছে আর্জেন্টিনা দল। আজ রাত ১টায় টেক্সাসের মারমুখী আবহাওয়া ও মাঠের লড়াইয়ে স্কালোনির এই কেইন-বেলিংহ্যাম বধের ছক কতটা কার্যকর হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে কোটি ফুটবলপ্রেমী।