
ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের টানা আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও ঢাকার মিরপুরে স্বাভাবিকতা ফিরলেও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ফের পুলিশ-শ্রমিক তুমুল সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আশুলিয়ার নরসিংপুর, জিরাব ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে নিয়ম অনুযায়ী হাজিরা দিয়ে কর্মস্থলে প্রবেশ করলেও কিছুক্ষণ পরই বের হয়ে এসে মহাসড়কে অবস্থান নেন।
গাজীপুরে আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষে আহত হয়ে পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন শেখের মৃত্যুর প্রতিবাদে সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার জিরাব এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। উসকানি ও নাশকতার অভিযোগে সাভার-আশুলিয়ায় দায়েরকৃত ৮টি মামলায় ইতোমধ্যে ৩০ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিবেচনায় আশুলিয়ার হা-মীম, শারমিন, নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন, নিউ এইজ, ডেকো ও বেঙ্গল গ্রুপসহ শতাধিক কারখানায় গতকাল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি’র ৩৩ প্লাটুন সদস্য ড্রোন নজরদারি ও এপিসি (APC) সাঁজোয়া যানসহ আশুলিয়া, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের স্পর্শকাতর স্থানে টহলে ছিলেন।
একই দিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এক ঘণ্টার জরুরি বৈঠক করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে পোশাকশিল্প মালিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে শিল্পমালিকেরা সাফ জানিয়ে দেন, আন্দোলনের নামে সহিংসতা না থামলে তারা বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ (No Work, No Pay) নীতির আওতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের চরম সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আগামী রবিবার পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানান।
অন্যান্য শিল্পাঞ্চল যেমন— নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও মিরপুরে গতকাল সার্বিক উৎপাদন ও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ও স্বাভাবিক ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে তৈরি পোশাক খাতের সকল কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার জন্য সদস্যভুক্ত কারখানা মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
অন্য এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে, শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে 'ন্যায্য' আখ্যা দিয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার ১৫ দফা দাবি পেশ করে তৌফিক শেখের হত্যার বিচার, মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং গ্রেপ্তারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই দিনে জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান নিহত শ্রমিক তৌফিকের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন।