
ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে সাত দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ৭ দিনের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটির প্রথম দিন সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নয়াপল্টনস্থ দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য এক বিশাল শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "অতীতে একটি রাজনৈতিক দল দেশের সব ইতিহাস ও জনগণের অধিকার অস্বীকার করে একদলীয় শাসন ও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। জনগণের ওপর সেই ভয়ংকর চাপ ও আধিপত্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল দেশের সাধারণ মানুষ। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায় এবং পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার সুদৃঢ় ব্যবস্থা করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।"
তিনি আরও যোগ করেন, "যখনই দেশ একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী কুচক্রের কবলে পড়ে আক্রান্ত হয়েছে, তখনই এ দেশের বীর জনগণ রাজপথে নেমে এর দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। যার সর্বশেষ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো স্বৈরাচার এরশাদের পতন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান।"
বিএনপির এই মুখপাত্র দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ কখনোই কারো কাছে মাথা নিচু করে চলে না এবং এ দেশের মানুষের মৌলিক রাজনৈতিক দর্শন হলো স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা। সাত দিনব্যাপী গৃহীত অন্যান্য কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী সেমিনার।