
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নিম্নমানের ইট ও উপকরণ ব্যবহার করে নির্মিত রাস্তা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফাটল ধরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের জুয়েল হারিস ও গিয়াসউদ্দিন মেম্বার এলাকার অভ্যন্তরীণ ও সংযোগ সড়কগুলো সম্প্রতি ‘২ নম্বর ইট’ বা নিম্নমানের ব্লক দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়, ইট ভেঙে যায় এবং কিছু অংশ ধসে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা রাস্তার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে আশাবাদী এলাকাবাসী এখন নতুন রাস্তারই অচলাবস্থায় পড়েছেন।
এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ট্রাক্টর চালাতে গেলেই ইট ভাঙছে, গাড়ি আটকে যাচ্ছে। এটা উন্নয়ন নয়, অপচয়।”
স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং নির্মাণকাজে যথাযথ তদারকির অভাবের অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ বলেন, “ঠিকাদার দরপত্র অনুযায়ী মানসম্মত ইট কিনেছেন, নাকি কম দামের নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটেছেন—তা তদন্ত হওয়া দরকার।”
এলাকাবাসীর দাবির মধ্যে রয়েছে—ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার দ্রুত স্বাধীন তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা, মানসম্মত উপকরণ দিয়ে পুনর্নির্মাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।
স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতারা বলেন, জনগণের করের টাকায় করা প্রকল্প নষ্ট হলে উন্নয়নের গতি ব্যাহত হবে এবং সরকারি কাজে মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক হোসাইন উজ্জ্বল জানান, প্রকল্পের প্রথম কিস্তির বিল ছাড় করা হয়েছে এবং ভিজিট চলমান। চূড়ান্ত কিস্তির বিল দেওয়ার আগে আবারও সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা কামনা করেছেন।
আই.এ/সকালবেলা