ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে বেতাগী প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও হুশিয়ারি
মোঃ সোহেল রানা, বরগুনা : বরগুনার বেতাগী উপজেলায় জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার্থে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার সময় একশ্রেণির অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অসহযোগিতা ও অন্তর্ঘাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে অভিযান চালানোর সময় নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে কিছু মানুষ টর্চলাইটের বিশেষ আলো ফেলে সংকেত দিচ্ছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, অভিযানকারী দল কখন নদী থেকে ফিরে আসে বা কোন রুটে টহল পরিচালনা করছে, সেই গোপনীয় তথ্যও স্থানীয় কিছু অসাধু দোকানদার ও ক্রেতা নিয়মিত সরবরাহ করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট ওই ২১ থেকে ২২ দিনের গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চললে মা ইলিশের অবাধ প্রজনন ও বংশবিস্তার শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব। ইলিশ যদি নিরাপদে ডিম ছাড়ার উপযুক্ত সুযোগ না পায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম প্রধান এই জাতীয় মৎস্যসম্পদের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। তাই বর্তমান সময়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্বিচারে মাছ ধরা, কেনাবেচা করা কিংবা চলমান এই সরকারি অভিযানে যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা দেশের সামগ্রিক মৎস্যসম্পদের অস্তিত্বের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
পরিস্থিতি কঠোর হাতে দমনের লক্ষে বেতাগী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানানো হয়েছে, যেসকল অসাধু জেলে ও ব্যক্তি এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের প্রত্যেকের সরকারি মৎস্য কার্ড স্থায়ীভাবে বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক সুরক্ষার স্বার্থে এলাকার সকল সচেতন জনসাধারণকে আইন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।