রাজবাড়ীর পাংশায় ভিমরুলের বাসা পোড়াতে গিয়ে আগুনে ৫ দোকান ছাই

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ণ
রাজবাড়ীর পাংশায় ভিমরুলের বাসা পোড়াতে গিয়ে আগুনে ৫ দোকান ছাই
রাজবাড়ীর পাংশা বাজারে আগুনে ভস্মীভূত দোকানপাটের ধ্বংসস্তূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর পাংশা শহরের বাড়েক মোড় এলাকায় একটি বসতবাড়ির পাশে ভিমরুলের বাসা পোড়াতে গিয়ে অসাবধানতাবশত আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাজারের পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাংশা বাজারের বাড়েক মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়েক মোড় এলাকার একটি বসতবাড়ির রান্নাঘরের পাশে স্তূপ করে রাখা পাটকাঠির পালায় ভিমরুল বাসা বাঁধে। শুক্রবার দুপুরে সেই ভিমরুলের বাসা ধ্বংস করতে পাটকাঠির পালায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পাশের পাংশা বাজারের দোকানগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনের তীব্র লেলিহান শিখায় পাংশা বণিক সমিতির সভাপতির দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষীরোদ পাল নামের এক ব্যবসায়ীর কাঠের ফার্নিচারের দোকানসহ সারিবদ্ধ মোট পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

খবর পেয়ে পাংশা ফায়ার সার্ভিসের দুটি এবং পার্শ্ববর্তী কালুখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্ষতিগ্রস্ত পাংশা বণিক সমিতির সভাপতি বলেন, "বাজার সংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে ভিমরুলের বাসা পোড়াতে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই সেই আগুন বাজারে ছড়িয়ে পড়ে আমার দুটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছে। দোকানগুলোতে থাকা মূল্যবান মালামাল পুড়ে অন্তত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"

আগুনে সর্বস্ব হারানো কাঠের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ক্ষীরোদ পাল আহাজারি করে জানান, জন্মাষ্টমীর ছুটি থাকায় শুক্রবার তাঁর দোকান বন্ধ ছিল এবং তিনি দোকানে উপস্থিত ছিলেন না। নতুন মালামাল কেনার জন্য ক্যাশ বাক্সে নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা রাখা ছিল। বিধ্বংসী আগুনে সেই নগদ টাকাসহ দোকানের সব মূল্যবান আসবাব ও কাঠ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দাওয়ান সোহেল রানা জানান, "প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে রান্নাঘর ও পাটকাঠির স্তূপে ভিমরুল পোড়ানোর অসাবধানতা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে পাংশা ও কালুখালীর তিনটি ইউনিট দ্রুত কাজ শুরু করায় আগুন পুরো বাজারে ছড়ানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ বিস্তারিত তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে।"

মন্তব্য করুন