স্পেনের বিশ্বকাপ জয় গাজায় উদযাপন করলো ফিলিস্তিনিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বশিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। স্প্যানিশদের এই ঐতিহাসিক সাফল্য উল্লাসের জোয়ার ভাসিয়েছে অবরুদ্ধ গাজার শত শত ফিলিস্তিনিকে।
ইসরায়েলের পরিচালিত রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই বছরেরও বেশি সময় পর, গাজা ভূখণ্ডের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে স্পেনের এই বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন।
ফিলিস্তিনিরা স্পেন জাতীয় দলের বিশ্বজয় উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আনন্দধ্বনি ও স্বাগত বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, বিশ্বজয়ের পর স্পেনে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত উদযাপনেও শত শত সমর্থক ফিলিস্তিনকে স্মরণ করেছেন। স্পেনের প্রধান প্রধান শহরগুলোর রাস্তা ও স্কোয়ারে উদযাপনের সময় সমর্থকদের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়ানো এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
স্পেন দলের এই জয়ের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের আবেগ জড়ানোর পেছনে অন্যতম কারণ তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এর আগে ২০২৫–২৬ মৌসুমে স্প্যানিশ লা লিগায় ক্লাব বার্সেলোনার শিরোপা উদযাপনের সময় খোলা বাসে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ফিলিস্তিনের জাতিসংঘ মিশন ও একাধিক মানবাধিকার বিষয়ক গণমাধ্যমকে দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ইয়ামালের সেই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পেলেও ইসরায়েলের একটি পক্ষের তরফ থেকে তাঁর কড়া সমালোচনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও ইয়ামালের পাশে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন।
যুদ্ধের দীর্ঘ কালো ছায়া ও ক্ষত ভুলে গাজার তরুণ ও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা একটি রাতের জন্য হলেও স্পেনের এই বিশ্বজয়ের আনন্দে একাত্ম হতে পেরেছিলেন।
|