আনিসুল হক ও পলক ফের গ্রেপ্তার

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ণ
আনিসুল হক ও পলক ফের গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে চালানো গুলিতে মামুন (২৫) নামে এক প্রাইভেটকার ড্রাইভারের বাঁ চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ফের গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই গ্রেপ্তারের আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন আদালতের এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইন গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামিদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে সরকারের নির্দেশে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্তে ড্রাইভার মামুনকে গুলি করে চোখ নষ্ট করার ঘটনায় তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ ও সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

রবিবার শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্য আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে জামিন ও অব্যাহতির দাবি তোলেন। বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তারের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল ৯টার দিকে মামলার বাদী ও তাঁর বন্ধু হোসেন, খোকন, আরিফসহ অনেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। সেদিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের ওপর আন্দোলনকারীরা অবস্থানকালে তাদের ওপর হঠাৎ গুলিবর্ষণ করা হয়।

এ সময় ড্রাইভার মামুনের মাথা, শরীর ও বাঁ চোখে গুলি লাগে। জখম অবস্থায় তাকে প্রথমে কাজলা ইসলামিয়া হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও তাঁর বাঁ চোখটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় পরে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টা ও অঙ্গহানির অপরাধে মামলা রুজু হয়।