জয়া-চূর্ণীর নতুন রসায়ন: সম্পর্কের জটিল সমীকরণে কেমন জমল ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’?
বিনোদন ডেস্ক: তিন বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি দুই নারীর আবেগ, অধিকার এবং দাম্পত্যের মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েন ফুটিয়ে তুলে দর্শকের মনে বেশ দাগ কেটেছিল। সেই গল্পকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে নির্মিত হয়েছে পরবর্তী অধ্যায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, যা সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সুনিপুণ পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিটি আগের অধ্যায়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চরিত্রগুলোকে নতুন সংকট, সিদ্ধান্ত ও মানবিক অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
২০২৩ সালের ‘অর্ধাঙ্গিনী’-তে দেখা গিয়েছিল সুমন কোমায় চলে যাওয়ার পর তার প্রাক্তন স্ত্রী শুভ্রা এবং বর্তমান স্ত্রী মেঘনার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক সম্পর্কের সমীকরণ। ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
নতুন ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ শুরু হয় সুমনের কোমা থেকে ফিরে আসার কয়েক বছর পর। সুমন সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক সংসারে ফিরলেও মেঘনার এক জটিল শারীরিক অসুস্থতা, সুমনের নতুন মানসিক দ্বন্দ্ব এবং শুভ্রার পুনরায় আগমন পুরো গল্পকে নতুন এক বাঁকে নিয়ে যায়। কেবল সাবেক ও বর্তমান স্ত্রীর মধ্যকার অধিকারের লড়াই নয়, এবার পর্দায় উঠে এসেছে পারস্পরিক ক্ষমা, সহমর্মিতা ও গভীর মানবিক সম্পর্ক।
আগের পর্বের মতো এবারও কেন্দ্রীয় চরিত্রে বাজিমাত করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, জয়া আহসান ও কৌশিক সেন। তাঁদের সঙ্গে নতুন সংযোগ ঘটেছে ইন্দ্রাশীষ রায়ের। এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অম্বরিশ ভট্টাচার্য, লিলি চক্রবর্তী ও আভেরি সিংহ রায় নিজ নিজ জায়গা থেকে গল্পকে সমৃদ্ধ করেছেন।
মেঘনা চরিত্রে আবেগঘন ও সাবলীল অভিনয়ের জন্য আবারও সর্বস্তরের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছবিটির প্রচারণায় নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে জয়া বলেন, “কৌশিকদা এবং চূর্ণীদি না থাকলে পর্দায় মেঘনা চরিত্রটিকে জীবন্ত করা হয়তো সম্ভব হতো না। তাঁদের সমর্থন ও দিকনির্দেশনার কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের তীক্ষ্ণ ও সংবেদনশীল সংলাপকে। পাশাপাশি অনুপম রায়ের গান ও আবহ সংগীত ছবির প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভূতিপ্রবণ করে তুলেছে।
তবে ছবির ক্লাইম্যাক্স বা সমাপ্তি নিয়ে দর্শকমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দর্শক একে অত্যন্ত সাহসী ও বাস্তবসম্মত সমাপ্তি বললেও, একটি অংশের মতে শুভ্রার মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্রের পরিণতি আরও অন্যরকম হতে পারত। তবে এসব ভিন্নমত সত্ত্বেও অসাধারণ অভিনয়, নির্মাণশৈলী ও আবেগঘন গল্পের জোরে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ এই বছরের অন্যতম আলোচিত বাংলা সিনেমা হিসেবে নজর কাড়ছে।
|