পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক খোলার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক খোলার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক

বিশেষ প্রতিনিধি: শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জেলায় জেলায় মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত সরকারি নির্দেশ ছাড়া আইনের অপব্যাখ্যা করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার দাবি করেছে, কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নয়, বরং শব্দবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংখ্যালঘু সমাজের প্রতিনিধিদের দাবি, কট্টরপন্থী মনোভাব নিয়ে পর্যায়ক্রমে আজান সম্প্রচারে বিধিনিষেধ আরোপের লক্ষ্যেই শব্দদূষণের অজুহাতে মাইক সরাতে বাধ্য করা হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দের মাত্রা সীমাবদ্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আইন সবার জন্য সমান এবং নিয়ম অমান্য করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ধর্ম পালন ব্যক্তিগত বিষয় হওয়া উচিত এবং সেক্ষেত্রে মাইকের কোনো প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞ ও মুসলিম নেতারা জানান, সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের কোনো রায়েই মাইক পুরোপুরি খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি; বরং নির্দিষ্ট ডেসিবেল বজায় রেখে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নজরুল ইসলাম এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ভিডিও ধারণ ও আইনি লড়াইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। আইএসএফ বিধায়ক ও ফুরফুরা শরীফের প্রতিনিধি নওশাদ সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লিখিত আদেশ ছাড়া মাইক খোলা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি এ বিষয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

একইভাবে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, শব্দদূষণ রোধে উভয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমা মেনে চলার তাগিদ দেওয়া উচিত, কিন্তু একতরফাভাবে এক সম্প্রদায়কে লক্ষ্য বানানো সামাজিক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এ উদ্ভূত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগী তিন সংখ্যালঘু এনসিপিআই এমপি দিল্লির সংসদ অধিবেশন শেষে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাইক খোলার লিখিত অভিযোগ ও ভিডিও প্রমাণ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন