হরমুজ থেকে বছরে ৪ হাজার কোটি ডলার টোল আদায়ের পরিকল্পনা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪ হাজার কোটি ডলার টোল আদায়ের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্যমতে, এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই অর্থ আদায় করা হবে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রতিবেশী ছয়টি উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে আলোচনাও সেরে ফেলেছে দেশটি।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী এই ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জলপথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত মার্চ মাসে ইরানের পার্লামেন্টে এই টোল সংক্রান্ত আইন পাস হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে ওমান সফরে গিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, “সবারই এটা জানা থাকা উচিত যে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আর কখনও যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।”
ইরানের এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাহরাইন সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের এ পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের বিনিময়ে টোল আরোপ করার অধিকার বিশ্বের কোনো দেশেরই নেই। কোনো চুক্তিই যুক্তরাষ্ট্র এটি গ্রহণ করবে না।”
মার্কো রুবিও আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি এমন পদক্ষেপ কার্যকর করে, তবে তা বিশ্বজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো নির্দিষ্ট জাতি-রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি আজকের বিশ্বের একটি মৌলিক নীতি, যা লঙ্ঘন করা হলে বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন অভিযান শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অবরোধ সৃষ্টি হয়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই প্রণালি দিয়ে প্রায় ৭০টি জাহাজ চলাচল করেছে। এখন দেখার বিষয়, টোল আদায়ের এই বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে তেহরান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।
|