সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা মামলায় আরো দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলায় আদালতে আরও দুজন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত এই দুই কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
নতুন এই দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটিতে থাকা মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্য প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী তৌহিদ খান গণমাধ্যমকে সাক্ষ্যগ্রহণের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী দুজন হলেন পুলিশ বাহিনীর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গ্রীশ চন্দ্র বর্মণ এবং এএসআই আজমল হোসেন। আজ নির্ধারিত দিনে জামিনে থাকা আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে হাজিরা দেন। তাদের উপস্থিতিতেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে নিজেদের জবানবন্দি পেশ করেন। জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম দুই সাক্ষীকে দীর্ঘ জেরা করেন। জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানার সাবেক সভাপতি নাইমুল হাসান, মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদ, ফিরোজ মাহমুদ, মীর আমজাদ হোসেন, সাজু ইসলাম, রাজীবুল ইসলাম, শহিদুল আলম খান, সিয়াম ও অলি আহমেদ।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট রাতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বূড়ীগঙ্গা ও রায়েরবাজার সংলগ্ন বাসভবনে এক নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সা বার্নিকাট। নৈশভোজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজের গাড়িতে চড়ে ফেরার পথে একদল সশস্ত্র যুবক তার গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ওই বছরের ১০ আগস্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রউফ ৯ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর ২০২২ সালের ২৮ মার্চ এই মামলায় আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
তবে বিচার চলাকালীন পূর্ববর্তী সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ড. বদিউল আলম মজুমদারের শ্যালক মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদের নাম নতুন করে উঠে আসায়, ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ফেরত পাঠান। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের চূড়ান্ত আদেশ দেন।
পরবর্তীতে ডিবির (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) সহকারী পুলিশ ্সুপার রাজন সাহা ঘটনার অধিকতর তদন্ত শেষ করে ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ইশতিয়াক মাহমুদসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে একটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সম্পূরক অভিযোগপত্র পর্যালোচনার পর ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
|