ইউক্রেনের বন্দরে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা: জ্বালানি ডিপো ও পশ্চিমা সমরাস্ত্র ধ্বংস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ণ
ইউক্রেনের বন্দরে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা: জ্বালানি ডিপো ও পশ্চিমা সমরাস্ত্র ধ্বংস
ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় বন্দর এলাকায় রুশ হামলার পর আগুনের কুণ্ডলী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে সার্বিক সহায়তা ও রসদ জোগানো বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরকে সরাসরি লক্ষ্য করে তাদের ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী আক্রমণ আরও জোরদার করেছে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস (TASS) জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওদেসা ও ইউঝনি বন্দরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো এবং জ্বালানি ডিপোতে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২০ জুলাই রাতভর ওদেসা বন্দরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি ও পিচ্ছিলকারক পদার্থের (ফুয়েল অ্যান্ড লুব্রিকেন্ট) প্রধান স্টোরেজ ট্যাংকগুলোতে সুনির্দিষ্ট উচ্চ-প্রযুক্তির আকাশভিত্তিক অস্ত্র এবং উন্নত কামিকাজে ড্রোন দিয়ে সফল হামলা পরিচালনা করা হয়।

এর আগে ১৮ ও ১৯ জুলাই পরিচালিত ব্যাপক আক্রমণগুলোতেও ইউক্রেনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ও সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার দাবি করেছে মস্কো:

  • নিকোলায়েভ ও ইউঝনি বন্দর: গত ১৮ জুলাই নিকোলায়েভ অঞ্চলে রাশিয়ার শক্তিশালী ‘ইস্কান্দার’ ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং 'জেরান-৪' ড্রোনের যৌথ হামলায় ইউক্রেনের তৈরি বিখ্যাত 'নেপচুন' কোস্টাল মিসাইল সিস্টেমের একটি আধুনিক লঞ্চার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। একই দিনে ইউঝনি বন্দরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সামরিক রসদ সরবরাহে ব্যবহৃত একাধিক বিশাল জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানা হয়।

  • জাহাজ ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র: ১৯ জুলাই ওদেসা বন্দরের বাইরের নোঙ্গরস্থলে অবস্থানরত একটি বাণিজ্যিক বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে সফল আক্রমণ চালায় রুশ 'জেরান-৪' ড্রোন। এ ছাড়া কৌশলগত স্নেক আইল্যান্ডের (সাপের দ্বীপ) উত্তরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন ও চালকহীন আক্রমণাত্মক নৌযান (ইউএসভি) উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজেও নিখুঁত হামলা চালানো হয়।

  • অস্ত্রাগার ও ওয়ার্কশপ: ওদেসা বন্দরে ইউক্রেনের সামরিক ড্রোনের অ্যাসেম্বলি ওয়ার্কশপ, ফুয়েল ট্যাঙ্কার পার্কিং এবং রাশিয়ার অনিক্স (Oniks) সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে বন্দরের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে ইউঝনি বন্দরে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো থেকে সরবরাহ করা সামরিক সরঞ্জাম, বিশাল অস্ত্রাগার এবং নোভিয়ে বেলিয়ারি এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাঁচটি প্রধান জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংসের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে রুশ বাহিনী।

মস্কোর সেনা সদরদপ্তরের দাবি, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর লজিস্টিক পরিবহন, অস্ত্র বণ্টন ও জ্বালানি সরবরাহের সার্বিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দিতেই কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোকে কেন্দ্র করে এই ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী হামলা জোরদার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন