ইমরান খানকে মুক্তি দিতে পাকিস্তানে চলছে গোপন আলোচনা

প্রকাশ: সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ণ
ইমরান খানকে মুক্তি দিতে পাকিস্তানে চলছে গোপন আলোচনা
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ৯২-এর বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতির প্রেক্ষাপটে তাঁকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার জোর গুঞ্জন দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর শীর্ষ মহলের সাথে ইমরান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে এই কারামুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির সুরক্ষিত আদিয়ালা জেলের নিভৃত এক নির্জন প্রকোষ্ঠে 'কয়েদি নম্বর ৮০৪' হিসেবে গত তিন বছর ধরে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দী রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় নেতা। সম্প্রতি তাঁর চোখে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার পর স্বজন ও আইনজীবীদের সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর সমর্থক ও পরিবারের সদস্যরা।

ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য অবজারভার'-কে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাবাকে বহির্বিশ্ব ও পরিবার থেকে সম্পূর্ণ একঘরে করে রাখা হয়েছে। তাঁদের সাথে নিরপেক্ষ বা নিয়মিত যোগাযোগের কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। পিটিআইয়ের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও একই শঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে মানবিক ও চিকিৎসাজনিত কারণে (মেডিকেল গ্রাউন্ডে) ইমরান খানের মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের ভাই নওয়াজ শরীফকে যেভাবে চিকিৎসার নাম করে সমঝোতার মাধ্যমে লন্ডনে পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, ইমরান খানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ একটি চুক্তির খসড়া ভাবা হচ্ছে। তবে ইমরানের মুক্তির ক্ষেত্রে দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে দীর্ঘমেয়াদে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং স্পর্শকাতর বিষয়ে মুখ না খোলার মতো কঠিন শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।

যদিও রাজনৈতিক বিষারদ ও মানবাধিকার আইনজীবীরা মনে করছেন, নীতিতে অটল থাকা আপসহীন ইমরান খান সেনাবাহিনীর দেওয়া এসব শর্ত সহজে মেনে নেবেন না। তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্টাফোর্ড স্মিথ মনে করেন, শর্ত মেনে ইমরান যেমন নতি স্বীকার করবেন না, তেমনি সামরিক নেতৃত্বও তাঁকে কারামুক্ত করে নতুন রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে চাইবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা ইমরান খান ২০২২ সালে সেনাকর্তাদের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে তাঁকে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী অবশ্য সেনাসম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ইমরান খানের ফায়সালা একমাত্র আদালতেই হবে এবং মেডিকেল গ্রাউন্ডে তাঁর মুক্তির কোনো আইনি যুক্তি নেই।

মন্তব্য করুন