দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪৭৩
অনলাইন ডেস্ক: দেশজুড়ে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ও সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ১ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৭৩ জন নতুন রোগী।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত দৈনিক বিজ্ঞপ্তিতে এই সর্বশেষ উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে নতুন ভর্তি হওয়া ৪৭৩ জন রোগীর একটি বড় অংশই ঢাকার বাইরের। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে:
ঢাকা বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৮৪ জন
বরিশাল বিভাগ: ৭৫ জন
খুলনা বিভাগ: ৬৬ জন
চট্টগ্রাম বিভাগ: ৬৩ জন
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ৪৪ জন
রংপুর বিভাগ: ৪২ জন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৩৭ জন
ময়মনসিংহ বিভাগ: ৩৬ জন
রাজশাহী বিভাগ: ২৩ জন
সিলেট বিভাগ: ৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি ২০২৬ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সর্বমোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৮৫ জনে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গুর গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের মধ্যে শুধু চলতি জুলাই মাসের ১৯ দিনেই ৪ হাজার ৩৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি।
অন্যদিকে, চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ জন মানুষ ওনাদের মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও জুলাই মাস সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। চলতি মাসেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে বছরের বাকি মাসগুলোর মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন এবং জুন মাসে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে ওনাদের ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ ও কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
|