ই-পাসপোর্টের নতুন নকশায় যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি

প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ণ
ই-পাসপোর্টের নতুন নকশায় যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি ও জাতীয় স্থাপনার জলছাপ যুক্ত করে নতুনভাবে বিন্যাস করা হচ্ছে বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট (ফাইল ছবি)।

অনলাইন ডেস্ক: ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অবিস্মরণীয় স্মৃতি এবং দেশের জন্য তরুণদের অসামান্য আত্মত্যাগের গৌরবময় ইতিহাসকে আন্তর্জাতিকভাবে ধরে রাখতে বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের অভ্যন্তরীণ নকশায় এক অনন্য ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে পাসপোর্টের ভেতরের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে সগৌরবে দৃশ্যমান হবে আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।

আজ রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে নতুন এই যুগান্তকারী ও আবেগঘন নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও দায়িত্বশীল সূত্র অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের ভেতরের সামগ্রিক নকশা ও জলছাপগুলো সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত এই নকশায় পাসপোর্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ও উত্তাল মুহূর্তগুলোকে ফুটিয়ে তোলা হবে। তরুণ ছাত্র-জনতার নিঃস্বার্থ বীরত্বকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই এই তিন বীর শহীদের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে কেবল জুলাই অভ্যুত্থানই নয়, বরং বাংলাদেশের আবহমান ইতিহাস, গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানামুখী মনমুগ্ধকর অনুষঙ্গকেও সমানভাবে যুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় নিরাপত্তা জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্তম্ভের ছবি। এ ছাড়া প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, ঐতিহাসিক পানামনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের ছবিও ঠাঁই পেয়েছে নতুন এই বইটিতে।

প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সিলেটের টাঙ্গুয়ার হাওর ও বান্দরবানের নীলগিরির ছবি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের চিরায়ত জলছাপের সাথে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিশ্ববিখ্যাত ও কালজয়ী চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’-কে।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের মূল ডাটা পেজে (ব্যক্তিগত তথ্য সংবলিত পাতা) আগের সব আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বিধি সম্পূর্ণ বহাল থাকছে। অর্থাৎ, নতুন বিন্যাসের এই পাসপোর্টটিও আগের মতোই ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ বিশ্বের সব স্বাধীন দেশের ভ্রমণের জন্য আইনিভাবে বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নতুন নকশার পাসপোর্ট মুদ্রণ ও বিতরণ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে (ডিআইপি) প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু বীর তরুণ ও সাধারণ মানুষ দেশের জন্য ও নতুন স্বাধীনতার জন্য প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জীবন্তভাবে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে ওনাদের এই মহান অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিতেই এই দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এটিকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য, সম্মানজনক ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করছেন সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহল।

মন্তব্য করুন