ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, সবাইকে সমান মর্যাদা দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ণ
ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, সবাইকে সমান মর্যাদা দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। (ছবি: সংগৃহীত)

জাতীয় প্রধান: বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে কোনো ধর্মীয় পরিচয়ে চিহ্নিত বা বিভাজিত না করে সমান মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো মানুষের পরিচয় তার ধর্ম দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না; বরং মানুষ হিসেবে তার মূল পরিচয়ই অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সুদৃঢ় ভিত্তি।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এই অভিমত প্রকাশ করেন।

সম্মেলনে তিনি বলেন, "ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরির সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। একজন মানুষের রক্তের রঙ যেমন ধর্ম বা বিশ্বাসের পার্থক্যে বদলে যায় না, ঠিক তেমনই রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা হতে পারে না। আমরা যদি সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিটি মানুষকে 'মানুষ' হিসেবে সঠিক মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদান করতে পারি, তবেই ভেদাভেদ ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের চিরতরে অবসান ঘটবে।"

আসন্ন দুর্গাপূজাসহ সকল ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, উৎসবের দিনগুলোতে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর আলাদা করে বিশেষ নিরাপত্তা চাওয়াটা আদর্শ রাষ্ট্রের লক্ষণ হতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে ও স্বাধীন পরিবেশে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন।

ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, "ধর্মভিত্তিক বা ভোটের রাজনীতি থেকে রাজনীতিকদের সরে আসা উচিত। জনগণের সুশাসন, সামাজিক কল্যাণ, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকেই প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।"

ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "মন্দিরের যে কোনো দখলকৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে সরকার সকল প্রকার আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। কোনো ভূমিদস্যু, দুর্বৃত্ত কিংবা প্রভাবশালীদের কাছে মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি জবরদখল থাকতে দেওয়া হবে না।"

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন