'ছাগলকাণ্ডে'র এনবিআরের সাবেক সদস্য Matiur-এর বিচার শুরু

প্রকাশ: সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ণ
'ছাগলকাণ্ডে'র এনবিআরের সাবেক সদস্য Matiur-এর বিচার শুরু
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এনবিআরের সাবেক সদস্য মতিউর রহমান। (ছবি: ফাইল ছবি)

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের মামলায় 'ছাগলকাণ্ড' দিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের (চার্জফ্রেম) নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। বিচারিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম।

এদিন সকালে কারাগার থেকে মতিউর রহমানকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে কাঠগড়ায় হাজির করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ পাঠ করে শোনানো হয়। বিচারক তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে মতিউর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থণা করেন।

এরপর মতিউর রহমানের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন জামিন চেয়ে আইনি আবেদন পেশ করেন। তবে দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং আসামিকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত শেষে দাখিল করা চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে— মতিউর রহমান জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এর পাশাপাশি সরকারি পদের অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার অতিরিক্ত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের কোরবানি ঈদের আগে ঢাকার সাদিক এগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকা দামে একটি ছাগল কেনার বুকিং দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণের নাম উঠে আসে, যিনি নিজেকে মতিউরের ছেলে হিসেবে পরিচয় দেন। ওই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মতিউর রহমান ও তাঁর পরিবারে গড়ে ওঠা সাম্রাজ্য ও বিপুল অবৈধ সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। পরবর্তীতে এনবিআর ও ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে দুদক তাঁর ও পরিবারের নামে থাকা একাধিক ফ্ল্যাট, পিকনিক স্পট, বিও হিসাব ও শত কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করার পর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

মন্তব্য করুন