শাপলা চত্বর গণহত্যা: হাসিনা ও জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর গণহত্যা: হাসিনা ও জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন
চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বৈঠক।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে এসে পৌঁছেছে। এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকতার সাথে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দাখিলকৃত এই প্রতিবেদনে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, একই গণমাধ্যমের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই সময়ের শীর্ষ পুলিশ ও র‍্যাব প্রধানসহ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনারকেও এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা জানিয়েছে, তদন্ত সংস্থা ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। বর্তমানে প্রসিকিউটরদের একটি বিশেষ প্যানেল আইনি নথিপত্র ও প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার কাজ চালাচ্ছেন। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হবে।

এদিকে, ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে গণহত্যার মামলার তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি জানতে রবিবার সকালেই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদের (মধুপুরের পীর সাহেব) নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটি চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক ও মতবিনিময় করেন।

চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ। তারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদসহ বিতর্কিত শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ১৩ দফা নিয়ে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। ওই দিন রাজধানীজুড়ে দিনভর তীব্র উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সংঘাতের পর গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র‍্যাব ও তৎকালীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সমন্বয়ে একটি যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। ‘অপারেশন সিকিউর ঢাকা’ নামের ওই অভিযানে রাতের অন্ধকারে শত শত মানুষকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে।

মন্তব্য করুন