নরসিংদীর পলাশে ছাত্রদল নেতার লাইব্রেরিতে আগুন

প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ণ
নরসিংদীর পলাশে ছাত্রদল নেতার লাইব্রেরিতে আগুন
ছাত্রদল নেতা মিয়া মোহাম্মদ সজিব

মো নুরনবী সানি, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিবের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে এক ভয়াবহ ও রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে লাইব্রেরিতে থাকা একটি বিদেশি পাখির কলোনি, শতাধিক মূল্যবান বই, আসবাবপত্র এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নথিপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার (১৮ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার মিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত সজিবের নিজ বাসভবন সংলগ্ন লাইব্রেরিতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোরে হঠাৎ করেই লাইব্রেরির ভেতর আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা মিয়া মোহাম্মদ সজিবের দাবি, ওনার এই ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বহু বছরের সংগ্রহ করা শতাধিক জ্ঞানগর্ভ ও একাডেমিক বই, ওনার নিজস্ব আসবাবপত্র এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র রাখা ছিল, যার সবই আগুনে পুড়ে গেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, লাইব্রেরির একটি অংশে ওনার শখের গড়ে তোলা একটি বিদেশি পোষা পাখির কলোনি (অ্যাভিয়ারি) ছিল, আগুনে খাঁচায় থাকা পাখিগুলোও পুড়ে মারা গেছে। এই ঘটনায় ওনার ব্যাপক আর্থিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ওনার দাবি।

অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ ছাত্রদল নেতা মিয়া মোহাম্মদ সজিব। তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, "সম্প্রতি পলাশ এলাকায় এক বালু ব্যবসায়ীকে মারধর এবং ওনার কান কামড়ে দেওয়ার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার পর থেকেই অজ্ঞাতনামা বিভিন্ন মহল থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে নানামুখী হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সেই পুরনো ঘটনার ও হুমকির জের ধরেই প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে আমার এই ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা ঘটিয়েছে।"

তবে সজিবের এমন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

 ঘটনার দিন ভোরে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত স্থানীয় লোকজন এবং পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কিছুক্ষণের আপ্রান চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাতের প্রকৃত কারণ এবং সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ওনাদের কারিগরি টিম কাজ করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে এবং নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গভীরভাবে তদন্ত করছে।

মন্তব্য করুন