পীরগাছায় নামিদামি কোম্পানির মোড়কে ভেজাল সার, ৭২ বস্তা জব্দ
হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় একটি বসতবাড়িতে গড়ে তোলা গোপন কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল সার, বালাইনাশক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল, আধুনিক সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির জাল মোড়কসহ ৭২ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার সৈয়দপুর বাজারের পশ্চিম পাশে তৈয়ব আলীর ছেলে আব্দুল মালেকের বাড়িতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মালেক (৫০) দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে গোপনে কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে ভেজাল সার ও অনুমোদনহীন বালাইনাশক তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিন।
অভিযানের সময় বাড়ির ভেতরের কারখানা থেকে ৭২ বস্তা ভেজাল সার, সার ও বালাইনাশক প্রস্তুতের বিপুল কাঁচামাল, প্রক্রিয়াজাতকরণের যন্ত্রপাতি এবং বহুজাতিক কৃষি প্রতিষ্ঠান সিনজেনটাসহ বিভিন্ন সুপরিচিত কোম্পানির হুবহু নকল প্যাকেট ও মোড়ক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত সমুদয় মালামাল স্থানীয় পারুল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হেফাজতে রাখা হয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মালেক পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুল মালেক প্রায় দেড় থেকে দুই দশক ধরে এই ভেজাল সার ও বালাইনাশক তৈরির কারবারের সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও একাধিকবার তিনি প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছিলেন।
অভিযান পরিচালনাকারী ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিন জানান, “ভেজাল সার তৈরি ও নামিদামি কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে কৃষকদের প্রতারিত করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। পলাতক আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। কৃষকদের স্বার্থরক্ষা ও জনস্বার্থে এই ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, মাহাবুবার রহমান মন্ডল, আসাদুল ইসলাম ও শামসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি আমন মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট রোধ, ভেজাল প্রতিরোধ ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন সার পৌঁছে দিতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার রাখা হয়েছে।
|