সরকারি রাস্তা দখল করে দেয়াল নির্মাণ, অপসারণের দাবি এলাকাবাসীর
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে সরকারি সড়ক দখল করে পাকা দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সড়কটি দখলমুক্ত করে দেয়াল অপসারণের দাবিতে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, কালিনগর গ্রামের মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে কালিনগর কবরস্থান পর্যন্ত সরকারি সড়কের পাশে আক্তার হোসেন ও শাহ আলম নামের দুই ব্যক্তি পাকা দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এর ফলে সড়কের প্রস্থ অনেকাংশে কমে গেছে, যার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে এলাকায় একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অভিযুক্তরা সড়কের স্বার্থে প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন করেননি।
ইউপি সদস্য মো. আল আমিন বলেন, সরকারি সড়কটির নির্ধারিত প্রস্থ ১২ ফুট থাকার কথা। কিন্তু নতুন করে দেয়াল নির্মাণের কারণে একটি অংশে সড়কটি সংকুচিত হয়ে প্রায় ৮ ফুটে নেমে এসেছে। এতে এলাকাবাসীর চলাচলে নিত্যদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আক্তার হোসেন বলেন, আমি মূলত আমার নিজের সীমানার জমি মেপেই দেয়াল নির্মাণ করেছি। পাশের জমির মালিক রাস্তার জন্য নির্ধারিত জায়গা না ছাড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত পেলে আমি রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছি।
অপর অভিযুক্ত শাহ আলম বলেন, আমার জমির দলিলপত্র অনুযায়ী সরকারি রাস্তার জায়গা বহাল রেখেই দেয়াল নির্মাণ করছিলাম। কিন্তু সালিস বৈঠকে জনস্বার্থ বিবেচনা করে রাস্তার পরিধি বাড়াতে আমাকে আরও দুই ফুট জায়গা ছেড়ে দিতে বললে আমি তাতে সম্মত হই। একই সাথে পাশের জমির মালিককেও সমপরিমাণ জায়গা ছাড়ার জন্য সালিসদাররা অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জায়গা না দেওয়ায় পূর্বের সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি সরজমিনে তদন্তের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যদি সড়ক দখলের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|