আপত্তিকর অবস্থায় ৩ নারীসহ ইউপি চেয়ারম্যান আটক
জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটায় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন নারীসহ এক ইউপি চেয়ারম্যান, একজন ইউপি সদস্য ও একজন প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাঁদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১টার দিকে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া হাট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন— সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লায়ন (৫৫), একই ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) আহসান আলী এবং মুন্সিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব মিয়া (৫০)। তাঁদের সাথে থাকা আরও তিন নারীকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া হাট এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লায়নের একটি ব্যক্তিগত বাড়ি রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ওই বাড়িতে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তিন নারী আসেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
ধীরে ধীরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১২টার দিকে উত্তেজিত জনতা একতাবদ্ধ হয়ে ওই বাড়িটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ঘরের ভেতর প্রবেশ করে তিন নারীসহ ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও প্রধান শিক্ষককে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে অবরুদ্ধ করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হলে সাঘাটা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ ছয়জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কামাল নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চেয়ারম্যানের এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা আমরা দীর্ঘদিন ধরেই শুনে আসছিলাম। কিন্তু তাঁর নিজস্ব লোকজনের কড়া পাহারার কারণে এতদিন কেউ মুখ খোলার বা প্রমাণ ধরার সাহস পায়নি। তবে প্রবাদ আছে— ‘চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের একদিন’। অবশেষে তারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। জনপ্রতিনিধি আর শিক্ষকের এমন নৈতিক পতন আমরা মেনে নিতে পারি না, এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে গাইবান্ধার সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “কচুয়া হাট এলাকায় অনৈতিক কাজের অভিযোগে তিন নারী ও তিন পুরুষকে উত্তেজিত জনতা আটকে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তাঁরা থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|