লামিনে ইয়ামালের জীবন সংগ্রাম ও বিশ্বজয়ের গল্প

প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
লামিনে ইয়ামালের জীবন সংগ্রাম ও বিশ্বজয়ের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি ভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষকে একসূত্রে বাঁধার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। সীমানা ও সংঘাতের বিভাজন মুছে দিয়ে এই খেলাই মানুষকে দেখায় নতুন স্বপ্নের দিশা। তেমনই এক রূপকথার জন্ম দিয়ে দারিদ্র্য ও চরম অনিশ্চয়তার দেয়াল ভেঙে ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন স্প্যানিশ ওয়ান্ডারকিড লামিনে ইয়ামাল।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজয়ের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা এই তারকার পেছনের পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। মরক্কো থেকে আসা বাবা মুনির নাসরাউই এবং গিনির মা শিলা এবানার ঘর আলো করে যখন ইয়ামালের জন্ম হয়, তখন পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিল। অনাহার আর অনিশ্চয়তার দিনে এই দম্পতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের দুই বন্ধু।

আর্থিক ও মানসিকভাবে সহায়তা করা সেই দুই বন্ধুর নাম ছিল 'লামিনে' ও 'ইয়ামাল'। বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা থেকে বাবা-মা তাদের প্রথম সন্তানের নাম রাখেন ‘লামিনে ইয়ামাল’। আরবি ভাষায় 'লামিনে' (আল-আমিন) শব্দের অর্থ সৎ বা বিশ্বস্ত এবং 'ইয়ামাল' (জামাল) শব্দের অর্থ সুন্দর। স্প্যানিশ নামকরণের রীতি মেনে বাবার দিক থেকে ‘নাসরাউই’ এবং মায়ের দিক থেকে ‘এবানা’ যুক্ত হয়ে তার পূর্ণ নাম হয় লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা।

শৈশবেই ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মায়ের কাছেই বেড়ে উঠলেও তার ফুটবলের প্রতি টান তৈরি হয়েছিল বাবার অনুপ্রেরণায়। জন্মের মাত্র পাঁচ মাস বয়সে এক দাতব্য কর্মসূচিতে লিওনেল মেসির কোলে চেপে ছবি তুলেছিলেন যে শিশুটি, ভাগ্যের অসাধারণ চক্রে সেই শিশুই আজ বিশ্ব ফুটবলের নতুন শাসনকর্তা।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ ফুটবল সংশ্লিষ্টরা জানান, "ইয়ামালের পিতামাতার আত্মত্যাগ এবং যে মানসিক দৃঢ়তা তারা দেখিয়েছেন, তা না থাকলে আজকের এই ফুটবল তারকাকে বিশ্ব হয়তো কখনোই পেত না।"

সব আশঙ্কা ও ভয়কে পেছনে ফেলে সিজারের মতো মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে পথ চলেছেন ইয়ামালের পরিবার। আর তারই ফসল হিসেবে আজ বিশ্বজয়ের ট্রফি হাতে বিশ্ব ফুটবলে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে নিয়েছেন উদ্বাস্তু কলোনি থেকে উঠে আসা এই তরুণ নক্ষত্র।

মন্তব্য করুন