রোদ-বৃষ্টিতে চুলের যত্ন ও ঘরোয়া হেয়ার প্যাক
আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণের ‘ফিচার’ ও ‘শৈলী ও রূপচর্চা’ বিভাগের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে রোদ ও বৃষ্টিতে চুলের সুরক্ষায় ঘরোয়া বিশেষ যত্নের নানাদিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
মাথার ত্বক ও চুল অতিরিক্ত ঘামে ভিজলে গোড়া নরম ও দুর্বল হয়ে যায়, যার ফলে চুল পড়ার হার দ্বিগুণ বাড়ে। আকাঙ্ক্ষাস গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের প্রধান রূপবিশেষজ্ঞ জুলিয়া আজাদ জানান, “গরমে মাথার ত্বকে ঘাম বা ময়লা যেন জমতে না পারে, সেজন্য এক দিন পরপর বা প্রয়োজনে প্রতিদিন সালফেটমুক্ত (Sulfate-free) মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলা উচিত। তবে প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে নিয়ম মেনে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে, যা চুলের আর্দ্রতা ধরে রেখে আগা ফাটা রোধ করে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, গরমে ট্যাপের পানি অনেক সময় বেশ গরম থাকে। এই গরম পানি সরাসরি মাথায় ঢাললে চুলের গোড়া আরও নরম হয়ে যায়। তাই চুল ধোয়ার জন্য সবসময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা হালকা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা উচিত।
সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে চুলের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতে প্রাচীন ও কার্যকরী কিছু ঘরোয়া উপায় বেছে নেওয়া যেতে পারে।
চালের পানি রূপচর্চায় বহু বছর ধরে ব্যবহৃত এই পানিতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ, যা চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল ভাঙা কমায় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ডাবের পানি এতে থাকা প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক মিনারেল মাথার ত্বককে সতেজ ও ঠান্ডা রাখে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অতিরিক্ত শুষ্কতা দেখা দিলে ডাবের পানি ম্যাসাজ করা অত্যন্ত উপকারী।
চুলের আর্দ্রতা ও সিল্কি ভাব ধরে রাখতে সপ্তাহে অন্তত একবার ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করা উচিত।
মেহেদি মাথা ঠান্ডা রাখলেও চুলকে কিছুটা শুষ্ক করে। তাই মেহেদির সঙ্গে জবা ফুল ও মেথি বাটা যোগ করলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং স্ক্যাল্প সতেজ থাকে। চুল পড়া কমাতে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল, ২ টেবিল চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল এবং একটি ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে মাথায় লাগাতে পারেন। পরিমাণমতো টক দই, গ্রিন টি এবং একটি পাকা কলা ব্লেন্ড করে প্যাক বানিয়ে চুলে লাগালে চুল উজ্জ্বল হয়। তবে এই প্যাকটি ব্যবহারের আগে সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস ও নারকেল তেল মিশিয়ে মাথার তালুতে মালিশ করে নেওয়া ভালো।
বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিকর অম্লীয় (Acidic) উপাদান এবং ধুলোবালি থাকে, যা স্ক্যাল্পে ছত্রাক বা ইনফেকশন তৈরি করে। তাই বৃষ্টিতে চুল ভিজলে বাড়ি ফিরে দ্রুত পরিষ্কার পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলা জরুরি। মনে রাখবেন, ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে; তাই ভেজা চুল ভুলেও আঁচড়াবেন না বা শক্ত করে বাঁধবেন না। তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে পানি শুষে নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে বাতাসে চুল শুকাতে দিন। এই ঋতুতে হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনারের মতো হিট স্টাইলিং টুলস ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
ঘাম ও বৃষ্টির কারণে চুলের গোড়া এমনিতেই নরম থাকে, তাই এই সময়ে খুব আঁটোসাঁটো বা শক্ত করে খোঁপা বা বিনুনি করা যাবে না। সবসময় হালকা ও ঢিলেঢালাভাবে চুল বাঁধুন। এছাড়া, অনেকেই সারারাত মাথায় তেল দিয়ে রাখেন, যা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে একদম ভুল অভ্যাস। সারারাত তেল রাখলে চুলের গোড়া আরও নরম হয়ে যায়। তাই গোসলের এক বা দুই ঘণ্টা আগে হালকা গরম নারকেল তেল বা আমন্ড তেলের সঙ্গে মেথি, জবা ও তুলসী পাতা ফুটিয়ে ম্যাসাজ করাই চুলের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উত্তম।
জান্নাত সকালবেলা