জিলহজ্জের চাঁদ দেখার আগে মুমিনের প্রস্তুতি

প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ণ
জিলহজ্জের চাঁদ দেখার আগে মুমিনের প্রস্তুতি

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ: ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মাস জিলহজ্জ কেবল হজ ও কোরবানির মাস নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন বছরের শ্রেষ্ঠ সময়গুলোর একটি, যার প্রতিটি নেক আমলের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই চাঁদ ওঠার আগেই একজন মুমিনের উচিত আত্মিক, পারিবারিক ও আর্থিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

প্রস্তুতির মূল ধাপসমূহ: আত্মশুদ্ধি ও তাওবা: জিলহজ্জের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো গুনাহমুক্ত হৃদয়ের জন্য আন্তরিক তাওবা করা এবং অন্যের হক আদায় করা। আমলের পূর্বপরিকল্পনা: নফল রোজা, তাহাজ্জুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের জন্য আগে থেকেই একটি রুটিন তৈরি করা জরুরি। বিশুদ্ধ নিয়ত ও হালাল উপার্জন: কোরবানি বা হজের অর্থ অবশ্যই হালাল হতে হবে এবং নিয়ত হতে হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আর্থিক দায়মুক্তি: ইবাদতের পূর্ণতার জন্য ঋণ পরিশোধ, আমানত রক্ষা এবং জাকাত আদায়ের মতো আর্থিক দায় মেটানো আবশ্যক। পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা: পরিবারকে জিলহজ্জের গুরুত্ব শেখানো এবং প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের হকের প্রতি সচেতন হওয়া মুমিনের দায়িত্ব।

বিশেষ আমল ও বর্জনীয়: আরাফাহর রোজা: জিলহজ্জের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা এবং বিশেষত আরাফাহ দিবসের রোজা রাখার প্রস্তুতি রাখা, যা দুই বছরের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। জিকির ও তাকবির: এই দিনগুলোতে বেশি বেশি 'আল্লাহু আকবার', 'আলহামদুলিল্লাহ' ও 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠের অভ্যাস করা। চুল-নখ না কাটা: যারা কোরবানি করবেন, তারা জিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুল, নখ বা চামড়া কাটবেন না। তাই চাঁদ ওঠার আগেই প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা শেষ করা উত্তম।

পরিশেষে, জিলহজ্জ কেবল বাহ্যিক আয়োজনের মাস নয়, বরং এটি ত্যাগের চেতনায় নিজেকে গড়ার সময়। বিশুদ্ধ নিয়ত, হালাল উপার্জন ও ইবাদতের মাধ্যমে জিলহজ্জকে রহমত ও মাগফিরাতের কারণ হিসেবে গ্রহণ করাই একজন সচেতন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

এ.আই.এল/সকালবেলা