‘প্রিন্সেস রোজী’ হয়ে ওঠার কঠিন গল্প শোনালেন ভাবনা

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ণ
‘প্রিন্সেস রোজী’ হয়ে ওঠার কঠিন গল্প শোনালেন ভাবনা

বিনোদন প্রতিবেদক:অভিনয়শিল্পের মূল মেথডলজি হলো নিজেকে ভেঙে চুরমার করে সম্পূর্ণ নতুন এক অবয়বে দর্শকের সামনে হাজির হওয়া। সেই কঠিন মেথডটিই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অ্যাপ্লাই করে দেখালেন এ প্রজন্মের অন্যতম শক্তিমান অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পের ভেতরের অন্ধকার ও নির্মম বাস্তবতাকে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি করেছেন নির্মাতা আসিফ ইসলাম। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’-এর অফিশিয়াল ট্রেলার, যেখানে মূল চরিত্র ‘প্রিন্সেস রোজী’ রূপে হাজির হয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ভাবনা।

আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল, সিনেমা রিভিউ ও বিনোদন খতিয়ান’ এবং ‘মুভি প্রিভিউ, গ্লোবাল ফেস্টিভ্যাল ট্র্যাকিং ও থিয়েটার আর্টস মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই চরিত্রে ভাবনার রূপান্তর ও মানসিক সংগ্রামের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

বিনোদন জগতের অফিশিয়াল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, প্রিন্সেস রোজী চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে ভাবনাকে নিজের দীর্ঘদিনের লালিত বডি ল্যাঙ্গুয়েজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, “লুক টেস্ট থেকে ফাইনাল লুক ‘প্রিন্সেস রোজী’। এই চরিত্রটি যখন আমার ডিরেক্টর আসিফ আমার কাছে নিয়ে আসে, আমি প্রথমেই ভেবেছিলাম এটা আমি কী করে করব? আমি একজন প্রফেশনাল শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী। ছোটবেলা থেকে আমরা যেভাবে কঠোর নিয়মে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করি, আমাদের সেই মেথডে যাত্রাপালার এই ধরণের নাচ বা অঙ্গভঙ্গি পাপের সমতুল্য।”

এই টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ভাবনার মনে ছিল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র ভয়। নিজের দ্বিধার কন্ডিশন পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে কোনো অভিনেতা যখন একটা চরিত্র হয়ে পর্দায় আসে, দর্শক তাকে বাস্তবের সেই মানুষটিই ভেবে ফেলে। তার ওপর আমি একজন নারী অভিনেতা। নিজের মনকে জিজ্ঞেস করলাম আমি কী চাই? উত্তর এলো আমি চরিত্রটি করতে চাই। এরপরই শুরু হলো সেই চরিত্রকে নিজের ভেতরে খোঁজার আসল গেমপ্ল্যান।”

চরিত্রটিকে শতভাগ রিয়ালিস্টিক করতে নির্মাতা ও অভিনেত্রী দিনের পর দিন শুধু চিত্রনাট্য ও চরিত্রটির মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই কঠোর মেথডলজির ফলস্বরূপ, ৪৮তম মর্যাদাপূর্ণ মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘আর্টকোর’ (Artcore) বিভাগে অফিশিয়ালি সিলেক্ট হয় চলচ্চিত্রটি।

মস্কোর বড় পর্দায় নিজের প্রিমিয়ার দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ভাবনা লেখেন, “মস্কোতে যখন বড় পর্দায় নিজেকে প্রিন্সেস রোজী হিসেবে দেখলাম, আমি নিজে আমাকে চিনতে পারি নাই! কিছু কিছু বোল্ড সিনের সময় লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলছিলাম—আমি এটা?” পোস্টের শেষে অভিনয়ের প্রতি নিজের শতভাগ সততা প্রকাশ করে তিনি এক দার্শনিক কন্ডিশন তুলে ধরেন। ভাবনা লেখেন, “আমি অভিনেতা হয়েই জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই। জানি এ জীবন কঠিন, তবুও কঠিনকে গ্রহণ করেছি। আমি কোনো বাণিজ্যিক দৌড়ে থাকতে চাই না। আমি একা, আরও একা হতে চাই; যাতে আমার সাথে কেবল আমার চরিত্ররাই বাস করে।” ভাবনার এই সাহসী রূপান্তর বাংলাদেশের সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন