দেশজুড়ে আজান নিষিদ্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে ডেনমার্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপের দেশ ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দেশটির অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশন মন্ত্রী মর্তেন বোদস্কভ সম্প্রতি ড্যানিশ সংবাদ সংস্থা ‘রিৎজাউ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানান।
মর্তেন বোদস্কভ সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, ডেনমার্কে ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামিকরণ’ জনপরিসরে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “ডেনমার্কের বাড়ির ছাদ থেকে আজানের আহ্বান শোনা উচিত নয়। এটি ডেনমার্কের সংস্কৃতির অংশ নয়।” তিনি আরও বলেন, দেশটিতে ঘুরতে বেরিয়ে যদি কারো মনে হয় যে তিনি ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে এসেছেন, তবে সেটি উদ্বেগের বিষয়।
ডেনিশ সরকারের এই পদক্ষেপটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, এই পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে টার্গেট করছে এবং এটি দেশটির সংবিধানে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হতে পারে। বর্তমানে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বাধীন সরকার অভিবাসন ও সংহতি বিষয়ক নীতিতে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে মুখঢাকা হিজাব ও নেকাব নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছিল ডেনমার্ক।
ডেনমার্কে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মুসলিম বসবাস করেন। অনেক জায়গায় স্থানীয়ভাবে শব্দের তীব্রতা সংক্রান্ত আইন থাকার কারণে আগে থেকেই অনেক মসজিদে লাউডস্পিকারে আজান প্রচার নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে এবার সরকার একটি জাতীয় আইনের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। সরকারি নথিপত্রে এই বিষয়টি ‘ইসলামিকরণ’ রোধ এবং জনপরিসর রক্ষার অংশ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ইতিপূর্বে ২০২০ এবং ২০২৫ সালেও ডেনমার্কে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সেবার তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের পদক্ষেপটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডেনমার্কের উচ্চ আদালত এবং সাংবিধানিক কাঠামোর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
জান্নাত সকালবেলা
|