রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় সৌদি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ধ্বংস, ফ্লাইট স্থগিত

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ণ
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় সৌদি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ধ্বংস, ফ্লাইট স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা ‘সৌদিয়া’র একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ দাউ দাউ করে জ্বলে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো রিয়াদ অভিমুখে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২২ সালের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত জুলাইয়ে পুনরায় ইয়েমেন যুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর এটিই সৌদি অবকাঠামোতে হওয়া অন্যতম বড় আঘাত।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাদের বাহিনী দুটি উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি আঘাত হেনেছে। একই সময়ে পরিচালিত এক সমন্বিত অভিযানে নাজরান বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

তবে হুথিদের এই দাবির আংশিক খণ্ডন করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, তাঁদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রিয়াদ ও খামিস মুশাইত লক্ষ্য করে ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে রানওয়ে ও বিমানে আগুনের ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

এয়ার ইন্ডিয়া আগামী শনিবার পর্যন্ত রিয়াদগামী এবং সেখান থেকে ছেড়ে আসা সকল বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল করেছে। অন্যদিকে জার্মানির লুফথানসা গ্রুপও সৌদি রাজধানীতে পরিচালিত সকল ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন মিশন তাঁদের সমস্ত নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বার্তা জারি করেছে। ৮ অক্টোবরের এ হামলার পর সৌদি আরবে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কিং খালিদ বিমানবন্দর ব্যবহারে বিশেষ নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গল ও বুধবারেও আভা এবং রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। সেসব হামলায় তিন বিদেশি নাগরিক নিহত হন এবং অন্তত ৩৬ জন গুরুতর আহত হন।

এদিকে স্থলভাগে ইয়েমেনের কৌশলগত তৃতীয় বৃহত্তম প্রদেশ তাইজে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষই বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন-তাইজ মহাসড়কের সংযোগস্থল দখলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনে বেসামরিক মৃত্যুর পাশাপাশি নিখোঁজদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস (আইসিআরসি)।