ভারতে প্রশ্নফাঁসের মাস্টারমাইন্ড বিজেন্দ্র গুপ্ত গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ণ
ভারতে প্রশ্নফাঁসের মাস্টারমাইন্ড বিজেন্দ্র গুপ্ত গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক: মেডিকেল ভর্তির সর্বভারতীয় নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তীব্র আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে যখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড বিজেন্দ্র গুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ।

দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিহারের একটি গোপন ড আস্তানা থেকে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বিজেন্দ্রর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইন্দ্রজিৎ সিং ওরফে পিকু নামে আরও এক অভিযুক্তকেও হাতেনাতে ধরে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন মহারাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিনই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা বাতিল করে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে প্রশাসন। এরপরই ঘটনার তদন্তে নেমে মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডি থানার পুলিশ ও একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বিজেন্দ্রকে খুঁজতে আন্তঃরাজ্য অভিযান শুরু করে। এর আগে তার স্ত্রীসহ চক্রের একাধিক সক্রিয় সদস্য ধরা পড়লেও বিজেন্দ্র ক্রমাগত অবস্থান বদলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিল।

তদন্তকারীদের মতে, বিজেন্দ্র গুপ্ত কেবল মহারাষ্ট্রের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সঙ্গেই জড়িত নয়; বরঞ্চ ভারতজুড়ে সরকারি চাকরির নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করার একটি বিরাট সর্বভারতীয় সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন।

এর আগে গত ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের আগ্রার একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। অনুসন্ধানে উঠে আসে, সেই ছাপাখানা থেকে নরেশকুমার মহোরে নামে এক কর্মী প্রশ্ন চুরি করে সাবেক কর্মী সঞ্জয়কুমার শর্মা ও সোনু কুমারের হাতে তুলে দিতেন। পরবর্তীতে সেই প্রশ্ন চলে যেত বিজেন্দ্র গুপ্তের হাতে। বিজেন্দ্র নিজের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দিত।

অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত বিজেন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিমানে করে পুণে হয়ে ভিওয়ান্ডিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ের বড় বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সাথে এই সিন্ডিকেটের যোগসূত্র কতটা গভীর, তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।

মন্তব্য করুন