ল্যান্ডমাইন ও অস্ত্র প্রদর্শনী নিয়ে চরম উত্তেজনায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া
অনলাইন ডেস্ক: অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ এবং সীমান্তে উত্তর কোরিয়া কর্তৃক অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভারী সমরাস্ত্র প্রদর্শনের জেরে চলতি সপ্তাহে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের খুব কাছাকাছি উত্তর কোরিয়াকে ১২২-মিমি স্বচালিত হাউইটজার কামান ও বৃহৎ সেনাবহর নিয়ে সামরিক মহড়া পরিচালনা করতে দেখা গেছে।
কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লিম ইউল-চুল জানান, সীমান্ত এলাকায় উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ জাতীয় ভারী সামরিক সরঞ্জামের এভাবে প্রকাশ্য ও আগ্রাসী প্রদর্শন অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তিনি মনে করেন, আলোচনার পথ এড়িয়ে নিজেদের সীমান্ত নীতি শক্ত হাতে প্রয়োগ করতেই পিয়ংইয়ং ক্ষমতার এমন দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।
এই সংকটের সূত্রপাত গত সপ্তাহে, যখন দক্ষিণ কোরিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক চিঠি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করে যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিএমজেডে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের পেছনে উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সরাসরি জড়িত। সিউলের দাবি, এটি দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট ও মারাত্মক লঙ্ঘন।
এর বিপরীতে গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) জাতিসংঘে পাল্টা জবাব পাঠায় পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার সরকার তাদের প্রেরিত চিঠিতে দক্ষিণ কোরিয়ার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের উল্টো দাবি, তাদের নিজস্ব সীমান্ত নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত করতে এবং উত্তর কোরিয়াকে আগ্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে চিত্রিত করতেই সিউল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনার অবতারণা করেছে। একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে কঠোর আত্মরক্ষামূলক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে এর সমস্ত দায় দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপিয়েছে তারা।
দক্ষিণ কোরীয় পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, উত্তর কোরিয়ার চিঠিতে তাদের পুরোনো গতানুগতিক অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এর আগে উত্তর কোরীয় সেনাসদস্যরা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করলে তাদের ফেরত পাঠাতে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ও মাইকিং পরিচালনা করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী।
পরিস্থিতির অবনতি রোধে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত সামরিক সংঘর্ষ এড়াতে সিউল প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে এশীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ২০১৫ সালের স্মরণীয় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনার মতোই বর্তমান এই সীমান্ত উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি এক সামরিক অচল অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে।
সকালবেলা / নুসরাত