ভারত সীমান্তে ২৫০টি উন্নত চীনা কামান মোতায়েন করল পাকিস্তান
অনলাইন ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সীমান্তজুড়ে নিজেদের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে চীনের তৈরি ২৫০টি অত্যাধুনিক ‘এসএইচ-১৫’ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেলড হাওইটজার (কামান) মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রস্তুত করা এক বিশেষ সামরিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, পাকিস্তানের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র পূর্ব সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে এই ১৫৫ মিলিমিটারের দূরপাল্লার কামানগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত কর্তৃক পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত প্রতিরক্ষা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিই ইসলামাবাদের নেওয়া সবচেয়ে বড় ও দৃশ্যমান সামরিক পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মে মাসে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ সামরিক অভিযান হিসেবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে। এই অভিযানের পর থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সামরিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করে, যার জের ধরে পাকিস্তান সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত শীর্ষস্থানীয় সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘নরিনকো’-র তৈরি এই এসএইচ-১৫ কামান অত্যন্ত গতিশীল ও বিধ্বংসী। এটি চার দরজাবিশিষ্ট ৬x৬ চ্যাসিসের ওপর নির্মিত এবং মূল ক্যাবিনের ছাদে একটি ১২.৭ মিলিমিটারের ভারী মেশিনগান যুক্ত রয়েছে। ৪০০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিনের এই সামরিক যানটির পাওয়ার-টু-ওয়েট রেশিও প্রতি টনে ১৫.৬৮ হর্সপাওয়ার।
কারিগরি দিক থেকে এটি সাধারণ ন্যাটো-সামঞ্জস্যপূর্ণ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পাল্লার গোলাবারুদ সহজে নিক্ষেপ করতে পারে। তবে বিশেষ ধরনের ‘রকেট-অ্যাসিস্টেড প্রজেক্টাইল’ ব্যবহারের মাধ্যমে এর সর্বোচ্চ আঘাত হানার সীমা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অটোমেটিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং দ্রুত হাইড্রোলিক স্পেড প্রযুক্তির সুবিধা থাকায় এই কামানটি নিমেষেই অবস্থান বদলে প্রতি মিনিটে ৬ রাউন্ড পর্যন্ত নিখুঁত গোলা বর্ষণ করে প্রতিপক্ষের পাল্টা আঘাতের আগেই সরে পড়তে সক্ষম (শুট অ্যান্ড স্কুট)।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকা সামরিক অক্ষেরই বাস্তব প্রতিফলন এই অস্ত্রের বিপুল সরবরাহ। সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডিতে এক অনুষ্ঠানে চীনের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক ও সামরিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির দুই দেশের সম্পর্ককে ‘অবিচল ও কালজয়ী’ বলে আখ্যা দেন।
এমন এক সময়ে এই বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হলো, যখন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর শর্ত বহাল রয়েছে। সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পাকিস্তান তাদের নতুন অর্থবছরের প্রতিরক্ষা বাজেট এক লাফে ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে তিন ট্রিলিয়ন রুপিতে উন্নীত করেছে।
|