রাশিয়া-ইউক্রেনের রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহত ১৭

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ণ
রাশিয়া-ইউক্রেনের রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহত ১৭

অনলাইন ডেস্ক:রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত আরও একধাপ তীব্র রূপ নিয়েছে। দেশের সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো লক্ষ্য করে রাতভর চালানো উভয়পক্ষের ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মস্কো-নিয়োজিত আঞ্চলিক গভর্নর ইয়েভগেনি বালিতস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের প্রিমোর্স্ক শহরের কাছে সিমফেরোপল থেকে মস্কোগামী ৩১ জন যাত্রী বোঝাই একটি বাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১ জন যাত্রী নিহত হন। আহত বাকি যাত্রীদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে যে, রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার চালানো রাতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, কিয়েভের সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন অবকাঠামো, খারকিভের লজিস্টিক সেন্টার এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর নৌযান লক্ষ্য করে দূরপাল্লার স্থলভিত্তিক অস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে এই সমন্বিত হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন অত্যন্ত জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ ঘাটতি থাকায় ইউক্রেনের কৌশলগত কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে মস্কো।

ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র কারখানা ও ড্রোন সংযোজন কেন্দ্রগুলো দেশের বিভিন্ন ছোট-বড় বেসামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গুদামঘরে ছড়িয়ে দেওয়ায়, রাশিয়াও তাদের আক্রমণের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে ইউক্রেনের যেকোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক স্থাপনা—যা সামরিক সরঞ্জাম বা ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে—তাকেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে ধ্বংস করে দিচ্ছে রুশ বাহিনী। ফলস্বরূপ, ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্প এলাকাগুলোতে নিয়মিত এমন ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

সকালবেলা / নুসরাত