চট্টগ্রাম বন্দরে ১৭ টন সন্দেহজনক পণ্য জব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: কাগজপত্রে পানমশলা, জর্দা ও প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ ঘোষণা করা হলেও চট্টগ্রাম বন্দরে কায়িক পরীক্ষায় মিলেছে সন্দেহজনক তামাক, মাদকসদৃশ বিভিন্ন রঙের পাউডার এবং বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ পেপার। মিথ্যা ঘোষণা ও অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে আনা প্রায় ১৭ টন এই সন্দেহজনক পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে করে চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতা ছেড়ে এসে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। একই মাস্টার বিল অব লেডিংয়ের (বি/এল) অধীনে দুটি হাউস বি/এল-এর মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়েছিল।
প্রথম হাউস বি/এল নম্বর অনুযায়ী ৪৭৩ প্যাকেজে ‘পান মশলা অ্যান্ড জর্দা (চুইং টোব্যাকো প্রোডাক্ট)’ ঘোষণা করা হয়েছিল। নথিতে পণ্যের মোট ওজন ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি দেখানো হলেও কৌতূহলী কাস্টমস কর্মকর্তারা গত রোববার কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক কিংবা তামাকসদৃশ সামগ্রী পান।
এর মধ্যে ডার্ক ব্রাউন রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, ব্রাউন রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, গ্রে রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং সাদা রঙের ৫ প্যাকেজে ১২৫ কেজি পণ্য রয়েছে। বিশেষভাবে, কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত এই সামগ্রীগুলো দেখতে বাইরে থেকে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক মনে হলেও, এতে প্রকৃতপক্ষেই কোনো নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত মাদক উপাদান রয়েছে কি না, তা ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক পরীক্ষার পর সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।
দ্বিতীয় হাউস বি/এল নম্বরে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হয়েছিল, যার কাগজে মোট ওজন দেখানো হয় ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি। তবে কায়িক পরীক্ষায় সমপরিমাণ প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ঘোষিত পণ্যের শ্রেণির সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরনে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো এই আমদানির সঙ্গে জড়িত প্রকৃত মালিকানার পরিচয়। কাস্টমসের নথিতে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’-কে কনসাইনি বা আমদানিকারক হিসেবে দেখানো হলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে কাস্টমস গোয়েন্দাকে জানিয়েছেন যে, এই আমদানির বিষয়ে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অনবহিত। কোনো অসাধু ও জালিয়াতি চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত লাইসেন্স বা তথ্য বেআইনিভাবে ব্যবহার করে এই চালানটি এনেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
সবমিলিয়ে দুটি হাউস বি/এল-এর মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে কায়িক পরীক্ষায় ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন সন্দেহজনক পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এই আমদানির নেপথ্যে থাকা চক্র এবং পণ্যের প্রকৃত প্রকৃতি উদ্ঘাটনে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।