মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত করিডোরে আগ্রহী বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশ থেকে চীন পর্যন্ত দীর্ঘ প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় অর্থনৈতিক করিডোরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যের অভাবনীয় নতুন দুয়ার খুলে যাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে তিন দিনের সফল সফর শেষে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের মান্দালয় ও ইয়াঙ্গুন হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত ১,২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়ক ও রেল অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলা সম্ভব হলে পণ্য পরিবহনের সময় নেমে আসবে মাত্র ২৪ ঘণ্টায়। তবে এ বাণিজ্য করিডোর সফল করতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা ও সেখানে থাকা ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
লিউ হাইশিংয়ের তিন দিনের সফরকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জোট ‘আরসিইপি’ (RCEP)-তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি ব্যবহার হবে এদিকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পদ্ধতিগত উদ্যোগ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এক প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা সাধারণ 'ট্রাভেল পাস' ইস্যু করবে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণ যাত্রীর মতো দেশে ফেরানোর প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির (Extradition Treaty) যে নির্দিষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রয়েছে, সেই বন্দি চুক্তির সব শর্ত মেনেই তাঁকে ফেরত পেতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হবে।"