২০২৭ সালের মধ্যে ১০ উড়োজাহাজ লিজ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ

প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ণ
২০২৭ সালের মধ্যে ১০ উড়োজাহাজ লিজ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ
রানিংয়ে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে বড় ধরনের সাময়িক উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে লিজের (ভাড়া) মাধ্যমে নিজেদের বহরে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন কেনা বোয়িং উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সালের আগে হাতে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় মধ্যবর্তী এই সময়ে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারে নিজেদের আধিপত্য ও প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এই সাময়িক কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিমানের এই লিজ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে তাদের বর্তমানে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের বহর একলাফে বেড়ে ২৯টিতে উন্নীত হবে। এর ফলে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধ থাকা বা নতুন লাভজনক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন গন্তব্যে যাত্রী সেবা সম্প্রসারিত করা।’

তিনি আরও জানান, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও রুট ও চাহিদার প্রয়োজন অনুযায়ী এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পুরো লিজ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। এই পরামর্শক কাজের জন্য ইতিমধ্যে আমাদের কাছে প্রায় ৪০টি আন্তর্জাতিক আবেদন জমা পড়েছে।’

২০৩১ পর্যন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল বিমান সূত্র নিশ্চিত করেছে, লিজের মাধ্যমে উড়োজাহাজ সংগ্রহের এই তাৎক্ষণিক কর্মসূচিটি বিমানের ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি মেগা পরিকল্পনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওই বিশাল চুক্তির আওতায় উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের কাছ থেকে স্বল্প সময়ে নতুন উড়োজাহাজ তৈরি করে আনা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় মধ্যবর্তী এই ৫-৬ বছরের জন্য লিজই এখন সবচেয়ে কার্যকর ও বাণিজ্যিক বিকল্প।’

তিনটি ড্রিমলাইনার লিজের তোড়জোড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আগামী ছয় বছরের জন্য ‘ড্রাই লিজে’ (শুধু উড়োজাহাজ ভাড়া, ক্রু ও মেইনটেইন্যান্স নিজস্ব) তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিমান। গত ১৫ জুলাই এ বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি উড়োজাহাজ সরবরাহ করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরবরাহ সম্ভব হলেও তা বিবেচনা করবে বিমান। এই দরপত্র বা প্রস্তাব জমার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৯ আগস্ট। ড্রাই লিজের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, উড়োজাহাজের ক্রু, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমার সমস্ত দায়িত্ব বিমানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই থাকবে।

ভবিষ্যতে যুক্ত হতে পারে এয়ারবাস বর্তমানে বিমানের বহরে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ সচল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ছয়টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (চারটি ৭৮৭-৮ ও দুটি ৭৮৭-৯), চারটি বোয়িং ৭৩৭ এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ। মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’-এর উড়োজাহাজও বহরে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের স্বার্থে বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই ধরনের উড়োজাহাজই সমানভাবে প্রয়োজন।’

বিমানের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবসা করা বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোর বহরও এখন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশের অন্যতম বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২০২৭ সাল থেকে লিজের মাধ্যমে ২১টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করার মেগা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। এ ছাড়া এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ারও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর এমন আগ্রাসী ও দ্রুত সম্প্রসারণের মুখে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে বিমানের এই ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। ১০টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে নতুন বোয়িং বহর সরাসরি হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিমান তার আন্তর্জাতিক মার্কেট শেয়ার বা বাজার ধরে রাখতে পারবে এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক রুটে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।

মন্তব্য করুন