সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ সমুদ্র অর্থনীতির (ব্লু-ইকোনমি) যুগে পুরোপুরি প্রবেশ করাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তার সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আয়োজিত বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’ (BIMEX 2026)-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের ৭০ শতাংশ জলরাশি মানবজাতির জন্য উন্মুক্ত। যারা এই বিশাল জলরাশি ও সমুদ্রসম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারছে, তারা এটিকে সম্পদে রূপান্তরিত করছে; আর উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার অভাবে এটি অনেকের জন্য অভিশাপে রূপ নিচ্ছে।”
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত নৌপথ এবং ১৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চমৎকার সমুদ্রসৈকত থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন এই সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বর্তমান সরকার সেসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে সমুদ্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে মাঠে নেমেছে।
দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর গতিশীলতা বৃদ্ধিতে গৃহীত সরকারি উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরকে পুরোপুরি কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অপারেটর প্রতিষ্ঠানের তিনটিকে যুক্ত করতে সমর্থ হয়েছে সরকার। এর মধ্যে লালদিয়া টার্মিনালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেনমার্কের বিশ্বখ্যাত এপি মোলারকে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
সমুদ্রসম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম সতর্ক করেন যে, যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে সমুদ্রের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে একপর্যায়ে তা অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়বে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে টেকসই উপায়ে সম্পদ আহরণ করতে হবে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ার পর প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করলেও বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অফশোর এলাকায় জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সাথে জাহাজ নির্মাণ, শিপ রিসাইক্লিং এবং শিপিং খাতে ফিলিপাইনের মতো বিশ্ববাজারে বাংলাদেশী নাবিক ও দক্ষ জনশক্তির হার বাড়াতে কার্যকর সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী।
সবশেষে বৈশ্বিক গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা ও টেকসই অভিযাত্রাকে নিশ্চিত করে বৈশ্বিক কল্যাণে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।