রাজধানীতে বাসের রুট কমে হচ্ছে ৩২, এক রুটে চলবে এক কোম্পানির বাস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে বাসের রুট কমে হচ্ছে ৩২, এক রুটে চলবে এক কোম্পানির বাস

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী ঢাকায় যেখানে-সেখানে হঠাৎ বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা, আগে যাওয়ার হুড়োহুড়ি এবং এক বাস অন্য বাসকে আটকে রাস্তা অবরুদ্ধ করার নিত্যদিনের অনিয়ম দূর করতে সমন্বিত বাস রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিদ্যমান ৯৮টি প্রচলিত বাস রুট কমিয়ে মাত্র ৩২টিতে পুনর্গঠন করা হবে। এর চেয়েও বড় পরিবর্তন হলো—প্রতিটি নির্দিষ্ট রুটে একটি একক ফ্র্যাঞ্চাইজি কোম্পানির নামেই চলবে সমস্ত গণপরিবহন, ফলে রাস্তায় একই রুটের বাসের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা থাকবে না।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই পরিকল্পনাটি একটি কার্যকর ও দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

এর আগে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস নামানোর উদ্যোগ পুরোপুরি ফলপ্রসূ না হলেও, এবার বাস মালিকসহ সব অংশীজনের পূর্ণ সম্মতি থাকায় উদ্যোগটি সফল হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা দেখছে ডিটিসিএ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত দুটি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস চালানো শুরু হবে। এর মধ্যে একটি রুট হলো আজিমপুর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে গাজীপুর পর্যন্ত। অপর রুট হিসেবে মোহাম্মদপুর-চট্টগ্রাম রোড অথবা মিরপুর-মাওয়া করিডরকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুরানো ও জরাজীর্ণ বাস শনাক্ত করা এবং নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী না তোলার বিষয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ২০টি পয়েন্টে কাজ করছেন তাদের প্রতিনিধিরা।

তবে এই মডেলটি দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতিগত এবং আর্থিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম।

অন্যদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে সঠিক তদারকি ও ব্যবসায়িক মডেল না থাকায় এ জাতীয় উদ্যোগ ভেস্তে গিয়েছিল। বিশিষ্ট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক মন্তব্য করেন, “বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি সফল করতে হলে ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্দেশিত নির্দিষ্ট মূল করিডরে লেগুনা কিংবা ছোট অবৈধ যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”

একই সঙ্গে বুয়েটের গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামানের মতে, সকল বাসমালিকের আর্থিক স্বার্থ ও ন্যায্য মুনাফা সুরক্ষিত রেখে নজরদারি বাড়াতে পারলে এই মডেল ঢাকার পুরো পরিবহন খাতের চিত্র বদলে দিতে পারে।