কবি বন্দে আলী মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ণ
কবি বন্দে আলী মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি ও অনন্য শিশুসাহিত্যিক বন্দে আলী মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি তাঁর কবিতায় অসাধারণ নৈপুণ্যে পল্লী প্রকৃতির চিরন্তন রূপ ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতির রূপ বর্ণনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। বিশেষ করে তাঁর রচিত কালজয়ী শিশুতোষ গ্রন্থ ও কবিতাসমূহ আজও পাঠকের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।

গ্রাম নিয়ে তাঁর লেখা অমর কবিতা ‘আমাদের গ্রাম’ পড়লেই যেকোনো পাঠক মুহূর্তেই তাঁর সোনালী শৈশবে ফিরে যান। চিরচেনা সেই পঙক্তি— ‘আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর/ থাকি সেথা সবে মিলে কেহ নাহি পর/ পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই/ একসাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।’ আজও প্রতিটি বাঙালির মুখে মুখে ফেরে।

বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মুন্সী উমেদ আলী ছিলেন পাবনা জজকোর্টের একজন কর্মচারী। বন্দে আলী মিয়া পাবনার মজুমদার একাডেমি থেকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর কলকাতা আর্ট একাডেমিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।

পরবর্তীতে ১৯৩০ থেকে ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দেশ বিভাগের আগে কলকাতা অবস্থানকালেই তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্য লাভ করেন। সেই সময় তাঁর প্রায় ২০০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তৎকালীন বিভিন্ন নামী গ্রামোফোন কোম্পানিতে তাঁর রচিত পালাগান ও নাটিকা রেকর্ড আকারে কলকাতার বাজারে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। দেশভাগের পর তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন এবং ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের পর প্রথমে ঢাকা বেতারে ও পরবর্তীতে রাজশাহী বেতারে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করেন।

কবি বন্দে আলী মিয়ার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— মেঘকুমারী, মৃগপরী, বোকা জামাই, কামাল আতাতুর্ক, ডাইনি বউ, রূপকথা, কুঁচবরণ কন্যা, ছোটদের নজরুল, শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা এবং বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা।

বাংলা শিশুসাহিত্যে অসামান্য ও যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহীর উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। এছাড়া দেশের প্রতি তাঁর অনন্য অবদানের জন্য তিনি মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুন রাজশাহীতে এই মহান গুণীজন শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মন্তব্য করুন