জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয় সংসদের এলডি হলে ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ শেষে চিকিৎসক সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের নানামুখী অদূরদর্শী, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চরম খেসারত হিসেবেই দেশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এ সংকট কাটিয়ে উঠে দ্রুত জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সর্বোচ্চ প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে একটি নিম ও একটি অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। পরে তিনি জাতীয় পতাকা ও ড্যাবের দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সমাবেশের শুভ উদ্বোধন করেন।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সরকার কখনো অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংক্রান্ত সংকটে কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছে। আমরা একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। পরিস্থিতি সচল করতে যখন দিনরাত কাজ চলছে, তখন রাষ্ট্র ও প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা সুকৌশলে এই খাতকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে এবং নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।"

স্বাস্থ্যব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার 'প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম' নীতিতে বিশ্বাস করে। এ লক্ষ্যে সারাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলে নাগরিকদের সচেতন করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে ప్రభుత్వం। এছাড়া সকল নাগরিকের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে চালু করা হবে 'ই-হেলথ কার্ড' এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৫ বছরে স্বাস্থ্য বাজেটের পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখাও প্রকাশ করেন তিনি।

সমাবেশে চিকিৎসকদের পেশাগত রাজনীতির মাত্রা নির্ধারণ করে তারেক রহমান বলেন, "গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত সবক্ষেত্রকে প্রভাবিত করায় পেশাজীবী বা চিকিৎসকরা রাজনৈতিক সচেতনতা বজায় রাখা বেআইনি বা অযৌক্তিক কিছু নয়। কিন্তু দলীয় অতি-রাজনীতি যেন পেশাগত পবিত্রতা ও দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটায়, সেটিই সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট।"

ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিশেষ বিসিএসে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ ও অবসরের সময়সীমা ৬৫ বছরে বৃদ্ধি এবং বহুল প্রতিক্ষীত 'স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন' বাস্তবায়নের প্রস্তাবনাসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল চিকিৎসক সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ বিশিষ্ট চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন