ইয়েমেনের মোখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

প্রকাশ: রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ণ
ইয়েমেনের মোখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় লাল সাগরের তীরবর্তী মোখা বন্দর। (ছবি: সংগৃহীত)

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের অন্তর্গত ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মোখা বন্দরে এক যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠী।

রোববার (৯ আগস্ট) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিধ্বংসী ড্রোন সহযোগে এই সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়। সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলায় বন্দরের মূল জেটি, প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং আমদানি করা বহু বাণিজ্যিক পণ্য ও জরুরি খাদ্য সামগ্রীর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইয়েমেনের উপ-তথ্যমন্ত্রী ফাইয়াদ আলনোমান ঘটনা সুনির্দিষ্ট করে জানিয়েছেন, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো আঘাত হানার আগমুহূর্তে শহরের আকাশসীমায় ইয়েমেনি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয় এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সমর্থ হয়। তবে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। হামলায় হতাহতের ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে চূড়ান্ত তথ্য জানানো না হলেও হামলায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় সাধারণ মানুষের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই হামলা চালানের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব স্বীকার করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে দাবি করেন, মোখা বন্দর এলাকায় অবস্থানরত প্রতিপক্ষের সামরিক ইউনিট ও বিপুল অস্ত্রের গুদামকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য করে এই ‘ব্যাপক মাত্রার’ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইয়াহিয়া সারির দাবি অনুযায়ী, তাদের হামলায় প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি সেনা সরঞ্জাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েক ডজন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রাচীন কফি বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ইয়েমেনের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত মোখা বন্দরটি বৈশ্বিক সমুদ্র পথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত, যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। বন্দরটি বর্তমানে সৌদি জোট-সমর্থিত ইয়েমেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও গত মাস থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পুনরায় সরকার ও হুতি বাহিনীর মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন