পর্দা নিয়ে কটূক্তিকারী শিক্ষক তাসনিম সিরাজকে বহিষ্কার করতে হবে: ওলামা অ্যালায়েন্স
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। একই সঙ্গে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী ধর্মীয় পোশাক পরিধান করার কারণে তাকে অপমান, হেনস্তা বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। একজন শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতি এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা। সেখানে কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাককে কেন্দ্র করে তাকে হেয় করা শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, “অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত করে সত্যতা নিরূপণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই হিজাব ও নিকাবসহ ধর্মীয় পোশাক পরিধানকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য, অপমান বা হয়রানি মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর পরামর্শ দেন তাঁরা।
বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলা হয়, অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অধিকার নিশ্চিত এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এআইএল/সকালবেলা